গানের শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে নিজেরাই গান গেয়ে ভোট চাইছেন: মুনমুন আহমেদ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এরই মধ্যে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল নিজেদের প্রচারের জন্য থিম সং প্রকাশ করেছে। তবে এই সংগীতনির্ভর প্রচার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ।
আজ (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মুনমুন আহমেদ লেখেন, “সারাদেশে গানের শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে, তাদের আয়-উপার্জনে আঘাত হেনে, আবার নিজেরাই গান গেয়ে ভোট চাইছেন! গান ছাড়া তো চলেই না।” তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মুনমুনের এই প্রতিক্রিয়ার পেছনে রয়েছে সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে এ দুই পদ বাদ দেয়। আগে শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালায় চারটি পদ ছিল-প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) এবং সহকারী শিক্ষক (সংগীত)। সংশোধনের পর এখন কেবল প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদ রাখা হয়েছে।
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সংস্কৃতিচর্চা উৎসাহিত করতে ২০২০ সালে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষকের পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও এ দুটি বিষয়ে পাঁচ হাজারের বেশি পদ অনুমোদন দেয়। কিন্তু ধর্মভিত্তিক কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পদ বাতিল করা হয়।
বিক্ষোভ ও সেমিনারের মাধ্যমে তারা দাবি তোলে, সংগীত শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ধর্মচর্চা ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; বরং শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে দুটিই প্রয়োজন। তার মতে, খেলাধুলা ও সংগীত শিশুদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন:
স্বামীকে দেখে হৃদয় কৃতজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ামত বললেন ফারিয়া
খারাপ সময়েই চেনা যায় আপনজন, যে কারণে বললেন নুসরাত ফারিয়া
এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারে গান ব্যবহার করাকে দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছেন মুনমুন আহমেদ। শিল্পী সমাজের অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তবে সেখানে বিষয়ভিত্তিক সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ আপাতত বন্ধ থাকায় সংস্কৃতি অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
এমএমএফ