দেশজুড়ে

পোস্টাল ব্যালটে জোরপূর্বক ভোট আদায়, পোস্ট মাস্টার বলছেন ভিত্তিহীন

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পোস্টাল ব্যালট ভোটগ্রহণে অনিয়ম ও জোরপূর্বক ভোট আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন প্রার্থীর প্রতিনিধিরা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি-২৯৮ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ানের পক্ষে অভিযোগ দেন প্রবীণ জ্যোতি দেওয়ান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে অভিযোগ দেন প্রমোদ মুৎসুদী এবং হাতপাখার প্রার্থীর পক্ষে অভিযোগ দেন আনোয়ার হোসেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, দীঘিনালা পোস্ট অফিসে প্রভাব খাটিয়ে কিছু ব্যক্তি পোস্টাল ব্যালট পেপারে ধানের শীষে সিল মারতে ভোটারদের বাধ্য করা হয়েছে। এতে নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটেছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, নির্বাচনি কাজে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে।

অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মো. মাসুদ রানা, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শান্তি প্রিয় চাকমা, সহসাধারণ সম্পাদক মো. মমিনুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুল্লাহ রানা এবং যুবদলের সদস্য মো. দুলাল।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মো. মাসুদ রানা বলেন,গতকাল পোস্ট অফিসের সামনে প্রচারণায় গিয়েছিলাম। একটি দুষ্কৃতিকারী মহল আমাদের উপস্থিতিকে বিকৃতভাবে সামাজিক মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুল্লাহ রানা বলেন, আমরা যেমন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছি, তেমনি জামায়াতের লোকজনও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চেয়েছে। এতে কোনো অনিয়ম হয়নি।

এ বিষয়ে পোস্টাল অপারেটরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পোস্টমাস্টার নিহারিকা চাকমা বলেন, পোস্ট অফিসের ভেতরে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। পোস্টাল ব্যালেটে জোর পূর্বক ভোট গ্রহণের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, তিন প্রার্থীর প্রতিনিধি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নির্বাচন বিধি মোতাবেক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রবীর সুমন/এএইচ/জেআইএম