ছোট পরিবার, অফিসের ব্যস্ততা আর চারপাশে ডিজিটাল স্ক্রিনের বাস্তবতায় সন্তান বড় করা অনেক অভিভাবকের কাছে সহজ নয়। অতিরিক্ত আগলে রাখা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ভয় দেখানো বা জোর করে শাসন শিশুর উপর বাড়তি চাপ ফেলে। এতে শিশুর শেখার স্বাভাবিক সুযোগও হারিয়ে যায়। আধুনিক প্যারেন্টিংয়ে এই অবস্থার মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে ফাফো প্যারেন্টিং।
ফাফো মানে কী?ফাফো মানে ফুল অ্যারাউন্ড অ্যান্ড ফাইন্ড আউট। সহজ বাংলায় বলতে গেলে, শিশুকে কিছু ভুল করার সুযোগ দেওয়া যাতে সে নিজে তার ফলাফলের মাধ্যমে শেখে। ‘হাঁটতে না শিখলে দৌড়ানো যায় না’এই ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে এই পদ্ধতি কাজ করে। বিশ্বের বহু সফল মানুষের অভিজ্ঞতাও দেখিয়েছে, জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা আসে ভুল থেকে। এই বাস্তবতাকেই মাথায় রেখেই ফাফো প্যারেন্টিংয়ের ধারণা তৈরি হয়েছে।
এই পদ্ধতিতে বাবা-মা সন্তানকে প্রতিটি ভুল থেকে আগেভাগে বাঁচানোর বদলে, নিরাপদ সীমার মধ্যে কিছু ভুল করতে দেন। যাতে শিশু নিজেই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সঠিক রাস্তা খুঁজে নিতে পারে।
নিরাপদ ভুলের মাধ্যমে শেখার পদ্ধতিএই পদ্ধতিতে আলাদা করে দমিয়ে বকা বা শাস্তির প্রয়োজন পড়ে না। শিশুর মধ্যে দায়িত্ববোধ, আত্মনির্ভরশীলতা এবং নিজের কাজের ফল নিজে নেওয়ার দক্ষতা তৈরি হয়। এতে শিশুর ভবিষ্যতের বাস্তব জীবনের সমস্যার মোকাবিলার জন্য মানসিক প্রস্তুতি হয়।
ফাফো মানেই অবহেলা নয়ফাফো প্যারেন্টিং মানে সন্তানকে অবহেলা নয়। সব ভুলের সুযোগ অবশ্যই নিরাপদ ও বয়স-উপযোগী হতে হবে। গরম বস্তু ধরানো, ব্যস্ত রাস্তায় হাত ছাড়ানো বা উচ্চতা থেকে লাফ দেওয়ার মতো বিপজ্জনক কাজের সুযোগ দেওয়া ফাফো পদ্ধতির অংশ নয়। বরং বাবা-মা পাশে থেকে প্রয়োজন হলে ব্যাখ্যা দিয়ে এবং পরবর্তীতে কী করলে ভালো হবে তা বুঝিয়ে থাকেন।
শিশুর বয়স ও মানসিক অবস্থা বিবেচনাফাফো প্রয়োগের সময় শিশুর বয়স, স্বভাব এবং মানসিক অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি। খুব ছোট বা সংবেদনশীল শিশুর ক্ষেত্রে সীমিত ব্যবহার উচিত। ভুলের পর শুধু ফল দেখানোই যথেষ্ট নয়, ভালোবাসা ও সহানুভূতির সঙ্গে শেখানোও জরুরি। এটি শিশুকে নিরাপদ অনুভূতি দেয় এবং অভিভাবকের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখে।
সুরক্ষিত অভিজ্ঞতা ও মানসিক বিকাশফাফো পেরেন্টিং হলো নিরাপদ ভুলের মাধ্যমে শেখার ভারসাম্যপূর্ণ পথ, যেখানে শিশু নিজে অভিজ্ঞতা থেকে শেখে আর বাবা-মা নিরাপদ ছায়ার মতো পাশে থাকে। এই সমন্বয়ই আজকের দিনে সন্তানের মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য
আরও পড়ুন:শিশুর প্রথম ৫ বছরে যে ভুলগুলো স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনে আপনার যে কথাগুলো সন্তানের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে পারে
এসএকেওয়াই/