হাঁটতে শেখার বয়সে শিশু পড়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো - পড়ে যাওয়ার পর অনেক বাচ্চা সঙ্গে সঙ্গে কাঁদে না। বরং তারা প্রথমে তাকায় অভিভাবকের দিকে।
মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন সোশ্যাল রেফারেন্সিং - শিশু বুঝতে চায়, যা ঘটেছে তা ভয়ংকর কি না।
নিউরোসায়েন্স বলছে, ছোট শিশুদের মস্তিষ্ক ব্যথা বা অস্বস্তিকে সঙ্গে সঙ্গে চিহ্নিত করে না। তার আগে তারা আশপাশের প্রাপ্তবয়স্কের মুখভঙ্গি, কণ্ঠস্বর ও শরীরী ভাষা পর্যবেক্ষণ করে। সেই সংকেতের ওপর ভিত্তি করেই মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নেয় - এখন ভয় পাবে, কাঁদবে নাকি উঠে আবার খেলবে।
অভিভাবক যদি পড়ে যাওয়া মাত্রই চমকে ওঠেন, আতঙ্কিত কণ্ঠে প্রশ্ন করেন বা দৌড়ে গিয়ে তুলে নেন, তাহলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র একটি বিপদের সংকেত পায়। তখন শিশুর মস্তিষ্ক শরীরের অনুভূতি যাচাই করার আগেই প্রতিক্রিয়া চালু করে দেয়। ফলে কান্না শুরু হয় - আঘাতের জন্য নয়, বরং পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক মনে হওয়ায়।
অন্যদিকে অভিভাবক যদি শান্ত থাকেন, স্থির কণ্ঠে কথা বলেন এবং আতঙ্কিত না হন, তাহলে শিশুর মস্তিষ্ক নিজে অনুভূতিটা বুঝে নেওয়ার সুযোগ পায়। অনেক সময় দেখা যায়, শিশু একটু থেমে উঠে দাঁড়িয়ে আবার খেলতে শুরু করে।
এর মানে এই নয় যে শিশুকে উপেক্ষা করতে হবে। বরং শান্ত উপস্থিতি দিয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে। অভিভাবকের শান্ত মুখ ও স্বাভাবিক আচরণ শিশুর মস্তিষ্ককে শেখায় কীভাবে ঘটনাকে নিরাপদভাবে ব্যাখ্যা করতে হয়।
নিউরোসায়েন্স বলছে, ছোট শিশুরা নিজেদের আবেগ সামলাতে পারে না; তারা বড়দের কাছ থেকে সেই নিয়ন্ত্রণ ‘ধার’ নেয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় কো-রেগুলেশন। বারবার এমন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিশুর মস্তিষ্কে আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক সহনশীলতার পথগুলো গড়ে ওঠে।
দীর্ঘমেয়াদে অভিভাবকের এই শান্ত প্রতিক্রিয়াই হয়ে ওঠে শিশুর মানসিক মানচিত্র। শিশুরা পৃথিবীকে কীভাবে দেখবে, কষ্ট বা চ্যালেঞ্জকে কীভাবে মোকাবিলা করবে - তা অনেকটাই শিখে নেয় বড়দের প্রতিক্রিয়া দেখে।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, জার্নাল অব চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট, ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক কাউন্সিল অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড
এএমপি/এএসএম