দেশজুড়ে

মাঠে ১০ প্রার্থী, লড়াই হবে বিএনপি-বিদ্রোহী স্বতন্ত্রে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। আসনটিতে মোট ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান ও দলটির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুরের এই আসনটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে সে চিত্র পালটে গেছে। একসময় বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো কোণঠাসা থাকলেও বর্তমানে তারা মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ও বিভিন্ন সামাজিক, পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রচারণা যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

মাদারীপুর-২ (সদর-রাজৈর) আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রচারণা চালাচ্ছেন জাহান্দার আলী জাহান। তিনি মাদারীপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব। ১৯৭৯-৯৩ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের কলেজ কমিটি, পৌরসভা কমিটি, থানা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮১-৮২ বর্ষে মাদারীপুর সরকারি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি দুইবার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ব্যাপারে জাহান্দার আলী জাহান বলেন, দলের পক্ষ থেকে ধানের শীষ প্রতীকে আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি, তারা আমাকে অনেক পছন্দ করেন, ভালোবাসেন। আশা করছি আমি বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ। আর আমি বিজয়ী হলে এই জেলাকে দুর্নীতি মুক্ত জেলা গড়ে তুলবো।

মাদারীপুর শহরের থানতলী এলাকার ভোটার লাবনী বেগম বলেন, অনেক বছর হলো ভোট দিতে যাইনি। এবার ভোট দেবো। ব্যক্তিগতভাবে জাহান্দার আলী জাহানকে চিনি। তিনি অনেক ভালো মানুষ। তাই ভেবেছি এবার তাকেই ভোট দেবো।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হয়েছেন মিল্টন বৈদ্য। তিনি কলস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব, মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৪ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে রাজৈর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেন। এরপর ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী হয়ে মাদারীপুর-২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণার কাজ করে যাচ্ছেন।

গত ২১ জানুয়ারি রাতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সই করা বিজ্ঞপ্তির বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মিল্টন বৈদ্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

রাজৈর উপজেলার এক ভোটার সোহেল রানা বলেন, রাজৈরে হিন্দু ভোটার সংখ্যা অনেক। তারা মূলত মিল্টন বৈদ্যকেই ভোট দেবেন। তাই সব মিলিয়ে বলা যায়, মাদারীপুর দুই আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান ও বিদ্রোহী প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য দুইজনেই শক্তিশালী। তাই ভোটের লড়াই হবে দ্বিমুখী। বলা যায় না, কে জেতেন আর কে হারেন। তাই নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীক নিয়ে মুফতি আব্দুস সোবাহান খানও দিনরাত প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনিও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

মুফতি আব্দুস সোবাহান খান বলেন, আমি নির্বাচিত হলে মাদারীপুর থেকে বেকার সমস্যা দূর করার পাশাপাশি সন্ত্রাসমুক্ত জেলা গড়ে তুলবো।

মাদারীপুরের হাজীর হাওলা গ্রামের ভোটার জাকিয়া আক্তার বলেন, ১০ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুস সোবহানকে আমরা সমর্থন করি। কারণ আমরা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজ মুক্ত জেলা গড়ে তোলার জন্য রিকশা প্রতীকে ভোট দেবো।

এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে আলী আহমাদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকে মহিদুল ইসলাম, কল্যাণ পার্টির হাতঘড়ি প্রতীকে সুবল চন্দ্র মজুমদার, মার্কসবাদী (বাসদ) থেকে কাস্তে প্রতীকে দিদার হোসেন, হরিণ প্রতীকে কামরুল ইসলাম সাঈদ, মোটরসাইকেল প্রতীকে সহিদুল ইসলাম খান, ঘোড়া প্রতীকে রেয়াজুল ইসলাম প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাদারীপুর সদরের ১০টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও রাজৈর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে মাদারীপুর-২ আসন গঠিত। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৮৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৭৯৫ জন। নারী ভোটার আছে ২ লাখ ১০ হাজার ৬৮১ জন। এছাড়া ৮ জন রয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। আড়িয়াল খা, কুমার নদ বিশিষ্ট এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৪৫টি। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৭৮টি ও রাজৈর উপজেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬৭টি।

এমএন/এএসএম