জাতীয়

২০২৫ সালে গড়ে প্রতিদিন ৭৫ অগ্নিকাণ্ড, ৮৫ জনের মৃত্যু

২০২৫ সালে সারাদেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ হিসাবে দিনে গড়ে প্রায় ৭৫টি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর তালহা বিন জসিম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এসব অগ্নিকাণ্ডে ৮৫ জন নিহত এবং ২৬৭ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ৩ জন কর্মী নিহত ও ১৭ জন আহত হন। অগ্নিকাণ্ডে সারাদেশে আনুমানিক ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। তবে দ্রুত উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬২ লাখ ১ হাজার ৯১৬ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

আগুন লাগার প্রধান কারণ

কারণভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোট অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ৯ হাজার ৩৯২টি (৩৪.৭১ শতাংশ)। এছাড়া বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা থেকে ৪ হাজার ২৬৯টি (১৫.৭৮ শতাংশ), চুলা থেকে ২ হাজার ৯০৯টি (১০.৭৫ শতাংশ), গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে ৯২০টি এবং গ্যাস সরবরাহ লাইনের লিকেজ থেকে ৫৬২টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া ছোটদের আগুন নিয়ে খেলার কারণে ৬০৮টি, কয়েল থেকে ৪৯৩টি এবং আতশবাজি, ফানুস ও পটকা পোড়ানো থেকে ১০৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বাসাবাড়িতেই বেশি আগুন

সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বাসাবাড়ি ও আবাসিক ভবনে। সারাদেশে বাসাবাড়িতে ৮ হাজার ৭০৫টি আগুন লেগেছে, যা মোট ঘটনার ৩২.১৭ শতাংশ।

আরও পড়ুননানির বাসায় থাকায় বেঁচে গেলো মা-বাবা ও ভাই হারানো শিশু রাফসানবাগেরহাটে ১৫ দোকান আগুনে পুড়ে ছাইরান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত, ধারণা পুলিশের

এছাড়া খড়ের গাঁদায় ৩ হাজার ৯২২টি, দোকানে ১ হাজার ৮০০টি, হাট-বাজারে ১ হাজার ৬৭টি, শপিংমলে ৬১৭টি এবং পোশাক শিল্প কারখানায় ৬৬৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বহুতল ভবনে (৬ তলার ঊর্ধ্বে) আগুন লাগে ৭১টি।

পরিবহন খাতে আগুন

২০২৫ সালে পরিবহনে অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে বাসে ১৫৩টি, অন্যান্য যানবাহনে ২১৬টি, ট্রেনে ১০টি, লঞ্চে ৪টি এবং জাহাজে ২টি আগুনের ঘটনা ঘটে। এ বছর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।

বছরের শুরুতেই বেশি আগুন

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল—এই পাঁচ মাসে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। মার্চ মাসেই আগুন লাগে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫২২টি। এসব মাসে গড়ে প্রতিদিন ১২৩টি করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

হতাহতের চিত্র

অগ্নিকাণ্ডে আহত ২৬৭ জনের মধ্যে পুরুষ ১৯৭ জন ও নারী ৭০ জন। নিহত ৮৫ জনের মধ্যে পুরুষ ৪৬ জন এবং নারী ৩৯ জন। হতাহতের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে বাসাবাড়ি, রাসায়নিক দুর্ঘটনা এবং বিমানের অগ্নিদুর্ঘটনায়।

উদ্ধার কার্যক্রম

২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ১০ হাজার ১৪০টি দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে ১০ হাজার ৩৩৩ জন আহত ব্যক্তি এবং ১ হাজার ৭৫৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই ৭ হাজার ৮১৫টি অভিযানে অংশ নিয়ে ৯ হাজার ২৬৬ জন আহত এবং ১ হাজার ৩৮ জন নিহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।

ভবন পরিদর্শন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম

অগ্নিনিরাপত্তা জরিপের আওতায় ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে ৬২২টি ভবন অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩ হাজার ৩১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অগ্নিপ্রতিরোধ জোরদারে ২০২৫ সালে ১৯২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে ১৫ হাজারের বেশি মহড়া, ফায়ার ড্রিল ও গণসংযোগ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, অগ্নিদুর্ঘটনা কমাতে জনসচেতনতা ও নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই।

টিটি/ইএ