ঠিকমতো ঘুম না আসার জন্য অনেকে মোবাইল ফোনকে দায়ী করেন। রাত জেগে স্ক্রল করা, নীল আলো, অস্থির মন-এসবই যেন অনিদ্রার প্রধান কারণ। ধারণাটা ভুল নয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম না আসার পেছনে আরও বহু কারণ কাজ করে। সারাদিনের ক্লান্তি, কর্মক্ষেত্রের চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন, উদ্বেগ কিংবা অবসাদের কারণে ঘুমের ছন্দ নষ্ট করতে পারে। সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে নতুন এক ট্রেন্ড-ঘুমের আগে মুখে সামান্য মাখন রাখলেই নাকি ঘুম দ্রুত নেমে আসে! অনেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর দাবি করছেন, সারা দিনের ক্লান্তির পর বিছানায় যাওয়ার আগে অল্প একটু মাখন খেলেই শরীর ও মন শান্ত হয়ে যায়। প্রশ্ন উঠছে এই পদ্ধতি কি সত্যিই কার্যকর, নাকি এটি আরেকটি ক্ষণস্থায়ী ভাইরাল ট্রেন্ড?
পুষ্টিবিদের মতে, মাখন মূলত ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় খাদ্য। ঘুমের আগে সামান্য ফ্যাট গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। ফলে শরীর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে। পাশাপাশি স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। এ কারণেই কেউ কেউ মাখন খাওয়ার পর শরীরে এক ধরনের আরাম অনুভব করতে পারেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাখনে বিউটাইরিক অ্যাসিড নামের একটি উপাদান থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে যাকে ‘গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস’ বলা হয়। অন্ত্র সুস্থ থাকলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া মাখনে ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে রয়েছে যেগুলো হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এই উপাদানগুলো সহায়ক।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, মাখন কোনো জাদুকরী ঘুমের ওষুধ নয়। অতিরিক্ত মাখন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে যাদের কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে। তাই ট্রেন্ড দেখে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে, নিজের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রাখা জরুরি।
ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে গেলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। কারণ শরীর তখন শক্তির ঘাটতি অনুভব করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে অল্প পরিমাণে চর্বি বা প্রোটিনজাতীয় খাবার গ্রহণ করলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি বজায় থাকে, ফলে ঘুমও তুলনামূলক ভালো হয়।
মাখন সেই কাজটি করতে পারে, কারণ এতে চর্বি রয়েছে যা ধীরে হজম হয়। তবে এটিই একমাত্র সমাধান নয়। এক মুঠো বাদাম, সামান্য দই, বা অল্প পরিমাণ পনিরও একই ধরনের উপকার দিতে পারে। এসব খাবারে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিন থাকে, যা রক্তে শর্করার ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে।
ভালো ঘুমের জন্য বরং নিয়মিত ঘুমের সময় নির্ধারণ, শোবার আগে স্ক্রিন টাইম কমানো, হালকা খাবার খাওয়া, ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং মানসিক চাপ কমানোর দিকে নজর দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান।
মাখন হয়তো সামান্য উপকার দিতে পারে, তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়। ভাইরাল ট্রেন্ডের চেয়ে সচেতন জীবনযাপনই ভালো ঘুমের আসল চাবিকাঠি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
আরও পড়ুন: দ্রুত বের হতে গিয়ে স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলছেন না তো? খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি, সতর্কতা জরুরি
এসএকেওয়াই/