‘এবার আর ভোট দেওয়া নিয়ে চিন্তা হচ্ছে না, নিজের ভোট নিজে দিতে পারতিছি’, কথাগুলো বলার সময় ২৬ বছর বয়সী বাপ্পির চোখেমুখে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশজুড়ে আজ চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। উৎসব মুখর পরিবেশে স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা।
খুলনা-৫ আসনের গিলাতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোর থেকেই ভোটাররা আসা শুরু করেন। ভোট প্রদান শুরুর নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টার আগেই বুথগুলোর সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়।
২০১৮ সালে প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পান খুলনার ফুলতলা থানার গিলাতলা গ্রামের বাপ্পি হোসেন। এরপর দুইবার সংসদ নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু একবারও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। গত নির্বাচনেও ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন ভোট হয়ে গেছে। এবার নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত বাপ্পি।
তিনি বলেন, ‘গত দুইবার নিজের ভোট নিজে দিতে পারিনি। মনে খুব কষ্ট ছিল। এবার আমি আমার ভোট দিয়েছি, খুব আনন্দ লাগছে।’
খুলনা-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির আলী আসগর লবি ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
খুলনা-৫ আসনের ঠিক পাশেই যশোর-৪ আসন। এখানে বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী ও জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম রসুল। এই আসনেও ভোর থেকেই ভোটাররা ভিড় করা শুরু করেন। আসনের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নে সোনাতলা, আমতলা, নাউলী, জিয়ালতলায় দুপুরের মধ্যেই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
এই আসনের সোনাতলার বাসিন্দা ২৯ বছরের মিঠুন দাস। পেশায় এনজিও কর্মী ভোট দিয়েছেন সকাল ৮টায়। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, ‘দারুণ অনুভূতি হচ্ছে। এভাবে যেন প্রতিবারই ভোটের পরিবেশ বজায় থাকে।’
৯২ বছরের আজমত মুন্সিও ভোট দিয়েছেন এবার। তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালের কথা মনে পড়ছিল। অনেক দিন পর ভোটের পরিবেশ দেখে ভালো লাগছে। একখান ভোটের দাম অনেক। এজন্য ভোট দিলাম।’
৫১ বছর বয়সী আজমতের ছেলে তকিবর শেখ নিয়ে এসেছেন তাকে। তিনি বলেন, ‘আব্বা কাল রাত থেকেই ভোট দেওয়ার জন্য বলছিল। সকাল সকাল তাকে নিয়ে আসছি। আমিও ভোট দিয়েছি। খুব আনন্দ হচ্ছে ভোট দিতে পেরে।’
খুলনা-৫ ও যশোর-৪, দুই আসনেই এখন পর্যন্ত কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলছে। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া ছাড়া তেমন কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।
এসকেডি/এমএমআর