ভোট গ্রহণ শেষ, শুরু হয়েছে গণনা। টেলিভিশনের পর্দা, অনলাইন পোর্টাল আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম - সবখানেই ফলাফলের উত্তেজনা। ঠিক এই সময়েই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে গুজবের কারবারিরা।
অমুক কেন্দ্রে বিপুল জয়, কোথাও ভোট গণনা বন্ধ - এমন অসংখ্য যাচাইবিহীন তথ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। স্নায়ুচাপের এই সময়ে একটুখানি অসতর্ক শেয়ারও তৈরি করতে পারে বড় বিভ্রান্তি। তাই ফলাফল নিয়ে যেকোনো তথ্য দেখলেই আগে যাচাই, পরে বিশ্বাস - এই নীতি মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কেন বাড়ে গুজব?
ফলাফলের অপেক্ষায় মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে থাকে। এই তীব্র কৌতূহল ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া রেজাল্ট, এডিট করা ছবি বা পুরোনো ভিডিও নতুন বলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় চটকদার শিরোনাম ব্যবহার করে ভেতরে ভিন্ন তথ্য পরিবেশন করা হয়, যা সাধারণ পাঠককে বিভ্রান্ত করে। তাই কিছু দেখেই বিশ্বাস করবেন না।
গুজব চেনার উপায়
১. উৎস যাচাই করুন
কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য দেখলে প্রথমে খেয়াল করুন, তা কোথা থেকে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা নির্ভরযোগ্য মূলধারার গণমাধ্যম ছাড়া অন্য উৎসের তথ্য নিয়ে সতর্ক থাকুন।
২. আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
কোনো খবর পড়ে যদি অতিরিক্ত উত্তেজিত বা আতঙ্কিত হন, ধরে নিন সেটি যাচাই করা দরকার। গুজব সাধারণত ভয় বা অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসকে টার্গেট করে।
৩. ছবি-ভিডিও যাচাই করুন
পুরোনো ঘটনার ভিডিও বা আগের নির্বাচনের ছবি নতুন বলে চালানো খুব সাধারণ কৌশল। সন্দেহ হলে গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চের মতো টুল ব্যবহার করে সময়কাল যাচাই করতে পারেন।
৪. শিরোনাম দেখে সিদ্ধান্ত নয়
শুধু শিরোনাম দেখে শেয়ার করবেন না। পুরো সংবাদটি পড়ে নিন।
সামাজিক স্থিতিশীলতায় আপনার ভূমিকা
একটি ভুল তথ্য মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলা বা সংঘাত তৈরি করতে পারে। তাই কোনো সন্দেহজনক পোস্ট দেখলে তা শেয়ার না করে বরং অন্যদের সতর্ক করুন। মনে রাখবেন, দ্রুত খবর পাওয়ার চেয়ে সঠিক খবর পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ধৈর্যের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করাই সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী রাখতে হলে তথ্যের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। ফলাফলের অপেক্ষায় থাকুন, কিন্তু গুজবের ফাঁদে পা দেবেন না।
সূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্দেশিকা; ইউনেসকো ‘ডিসইনফরমেশন ও মিডিয়া লিটারেসি’ গাইডলাইন, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন প্রতিবেদন
এএমপি/এমএন