দেশজুড়ে

রাঙ্গামাটির-২৯৯ আসনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেলেন বিএনপি প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি ২৯৯ নম্বর আসনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. দীপেন দেওয়ান বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী ২৯৯ নম্বর রাঙ্গামাটি আসনে বেসরকারিভাবে দীপেন দেওয়ানকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফলে জানা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে অ্যাড. দীপেন দেওয়ান ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৪২ ভোট।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফলে জানানো হয়, রাঙ্গামাটি ২৯৯ নম্বর আসনে মোট ভোটার ৫ লাক ৯ হাজার ২৬৭ জন। পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্রসহ মোট ২১৪টি কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৭৯৯ জন ভোটার। যা মোট ভোটের ৫৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এখানে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৮৬৬ এবং বাতিল হয়েছে ১০ হাজার ১১২ ভোট। এই আসনে গণভোটে ‘না’ তে ভোট দিয়েছেন ১৭ হাজার ৯৮০৫ জন এবং ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দিয়েছেন ৭১৭১৯ জন ভোটার।

রাঙ্গামাটি আসনে মোট সাতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছাড়াও অন্যান্য প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা রিকশা প্রতীকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছেন ২২ হাজার ৭১৫ ভোট, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী হাজী জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৭২ ভোট, লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী অশোক তালুকদার পেয়েছেন ২ হাজার ৯৭৪ ভোট, কোদাল প্রতীকে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জুঁই চাকমা পেয়েছেন ১ হাজার ৭০ ভোট এবং ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল বাশার পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট।

কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই ভোটের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসনের পাশাপাশি বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করে।

ফলাফল ঘোষণা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী বলেন, নির্বাচন পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

আরমান খান/এনএইচআর/এএসএম