নবগঠিত ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার একটি সুষম সমন্বয়। দেশের জন্য এটি একটি গতিশীল নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। নবীন-প্রবীণের সম্মিলিত জ্ঞান, উদ্যম ও বাস্তব অভিজ্ঞতা সুশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে। দেশকে টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে এ মন্তব্য করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এই বিশাল বিজয়ের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
কেমন হলো দুই দশক পর সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়া বিএনপির মন্ত্রিসভা? এটা নিয়ে সব মহলে চলছে আলোচনা।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও মাসরুর রিয়াজ জাগো নিউজকে বলেন, নতুন গঠিত মন্ত্রিসভাকে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় ও ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। এই মন্ত্রিসভায় একদিকে রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, অন্যদিকে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে বহুবার জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন। ফলে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন সহজ হবে বলে আশা করা যায়।’
এটি একটি কার্যকরী সিদ্ধান্ত, কারণ সরকার কীভাবে নীতি প্রয়োগ করবে এবং দেশের সমস্যা সমাধান করবে, তা এই মন্ত্রিসভার কর্মক্ষমতা দিয়ে বোঝা যাবে। প্রথম একশ দিনের পরিকল্পনা এই কর্মসম্পাদনের সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে এবং সরকারের সফলতার ইঙ্গিত দেবে।-অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানুজ্জামান
রিয়াজ বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় তারুণ্য ও আধুনিক বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি গ্রহণে সহায়ক হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি, রাজনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতি একে অপরের পরিপূরক এবং আন্তঃনির্ভরশীল। এই বাস্তবতা বিবেচনায় অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।’
আরও পড়ুনদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হলেন তারেক রহমানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ২৫ জন৫০ জনের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ ৪১
‘বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এমন একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি খাতের সঙ্গে সংলাপ ও নীতিনির্ধারণে যুক্ত ছিলেন। একইভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বেসরকারি খাত থেকে আসা নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।’ আশা ব্যক্ত করেন এ অর্থনীতিবিদ।
আমরা আশা করবো যে তারা আইনশৃঙ্খলা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করবেন। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলো সমাধান করতে তারা কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং সংস্কারের মাধ্যমে এই বাধাগুলো দূর হবে। তৃতীয়ত, আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রে কাস্টমস ও এনবিআরের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা সমাধান করা হবে।-বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম
তিনি আরও বলেন, সামগ্রিকভাবে এই মন্ত্রিসভা অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সমসাময়িক বৈশ্বিক উপলব্ধির একটি কার্যকর সমন্বয় করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা জাগাবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানুজ্জামান নতুন মন্ত্রিসভা সম্পর্কে বলেন, ‘সরকার বহুপ্রতীক্ষিত নির্বাচনের পর শপথগ্রহণ করেছে। দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীসহ মোট পঞ্চাশ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। কিছু অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।’
তিনি বলেন, ‘এটি একটি কার্যকরী সিদ্ধান্ত, কারণ সরকার কীভাবে নীতিপ্রয়োগ করবে এবং দেশের সমস্যা সমাধান করবে, তা এই মন্ত্রিসভার কর্মক্ষমতা দিয়ে বোঝা যাবে। প্রথম একশ দিনের পরিকল্পনা এই কর্মসম্পাদনের সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে এবং সরকারের সফলতার ইঙ্গিত দেবে।’
‘সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু মন্ত্রিসভা নয়, সরকারি ও বিরোধীদলের যৌথ প্রচেষ্টা অপরিহার্য। গভর্ন্যান্স এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারী গোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এদিক থেকে নতুন মন্ত্রিসভার জন্য যৌথ উদ্যোগ ও অংশগ্রহণমূলক নীতি গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ বলেন এই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা আসছেন, তাদের প্রত্যেককে আমি অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ মনে করি। অতীতে তারা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং আমরা আশা করি তারা এই পদে সফল হবেন।’
হাতেম বলেন, ‘তবে আমরা তাদের কাছ থেকে আমাদের বিভিন্ন প্রত্যাশা রাখি। প্রথমত, আমরা আশা করবো যে তারা আইনশৃঙ্খলা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করবেন। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলো সমাধান করতে তারা কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং সংস্কারের মাধ্যমে এই বাধাগুলো দূর হবে। তৃতীয়ত, আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রে কাস্টমস ও এনবিআরের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।’
এছাড়া এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সংক্রান্ত উদ্যোগ নিতে হবে এবং জ্বালানি সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা আশা করি নতুন মন্ত্রিসভা দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতের জন্য কার্যকর নেতৃত্ব দেবে, আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আইএইচও/এএসএ