ইসবগুলের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। প্রাচীনকাল থেকেই হজমসহ পেটের অস্বস্তি জনিত সমস্যা দূর করতে ইসবগুলের ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে উপমহাদেশে কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের সমস্যায় এটি এক পরিচিত ঘরোয়া উপাদান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যতালিকায় আঁশের ঘাটতি, অনিয়মিত জীবনযাপন ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের আধিক্যের কারণে অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলুন ইসবগুল সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।
ইসবগুল পাওয়া যায় ‘প্ল্যান্টাগো ওভাটা’ উদ্ভিদের বীজের বাইরের আবরণ থেকে। এই উদ্ভিদ প্রধানত ভারত ও পাকিস্তানে চাষ হয়। বীজের যে খোসা বা ভুষি আলাদা করা হয়, সেটিই বাণিজ্যিকভাবে ‘সাইলিয়াম হস্ক’ বা ইসবগুলের ভুষি নামে বিক্রি হয়। বীজ খাওয়া গেলেও ভূষিতেই অধিকাংশ আঁশ থাকে, তাই স্বাস্থ্যগত কারণে সাধারণত এটিই ব্যবহৃত হয়। ইসবগুল দেখতে হালকা রঙের ও প্রায় স্বাদহীন। এটি পানিতে গুলে দ্রবীভূত হয় না, বরং দ্রুত ফুলে জেলির মতো আকার ধারণ করে। এই জেল গঠন ক্ষমতাই এর কার্যকারিতার মূল ভিত্তি।
পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্যইসবগুল মূলত দ্রবণীয় আঁশে সমৃদ্ধ। এতে ক্যালোরি, চর্বি, চিনি বা প্রোটিন খুবই সামান্য। ভিটামিন বা খনিজও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নেই। তাই একে পুষ্টিকর খাদ্য বলা না গেলেও এটি একটি ‘কার্যকরী খাদ্য উপাদান’ হিসেবে বিবেচিত, যার প্রভাব মূলত পাচনতন্ত্রের আচরণের ওপর নির্ভরশীল।
ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যাগ্রিক্যালচার- এর পুষ্টি তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী, সাইলিয়াম জাতীয় আঁশ অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক।
ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত তরল না থাকলে এটি অন্ত্রে সঠিকভাবে ফুলতে পারে না এবং অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, ওষুধ গ্রহণের অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে ইসবগুল খাওয়া উচিত, কারণ এটি কিছু ওষুধের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসবগুল কোনো পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার নয়, বরং এটি একটি কার্যকরী আঁশসমৃদ্ধ উপাদান। বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, সঠিকভাবে ও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে এটি হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা, কোলেস্টেরল কমানো ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ইসবগুলকে ‘ম্যাজিক সমাধান’ হিসেবে নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
তথ্যসূত্র: ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যাগ্রিক্যালচার, মায়ো ক্লিনিক, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ
জেএস/