বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নতুন সরকারের- এমন মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের কাছে পূর্ববর্তী দায়িত্বশীলরা বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সদ্য সাবেক অর্থ উপদেষ্টা নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য কিছু নীতিগত পরামর্শ দিয়েছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টিও রয়েছে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন একটি সংবেদনশীল বিষয়। এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকার নিলেই ভালো হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়াটাই শ্রেয় বলে আমি মনে করি।
তিনি আরও বলেন, নতুন অর্থমন্ত্রী নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। এখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে।
ব্যাংকের সংখ্যা নিয়ে সাবেক অর্থ উপদেষ্টার মন্তব্য প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, দেশের অর্থনীতির আকার অনুযায়ী ৬১টি ব্যাংক বেশি- এটি তার ব্যক্তিগত মতামত। নতুন সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা গেলে ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হলেও সেগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে। সবকিছু নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণের ওপর নির্ভর করবে।
আরও পড়ুনক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিসহায়তা উত্তরা ইপিজেডে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে তিয়ানফোর্ড টেক্সটাইল
বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া। ব্যাংক তদারকির জন্য আলাদা কোনো সংস্থা গঠনের বিষয়টি একটি বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত। বিশ্বের কিছু দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোতে এর উদাহরণ নেই। নতুন সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে কিছু অপ্রধান কার্যক্রম থেকে সরে এসেছে। যেমন সঞ্চয়পত্র ও রাজস্ব সংক্রান্ত কিছু কার্যক্রম এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের বোর্ড প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন হওয়ায় বোর্ডে সরকারি প্রতিনিধিদের থাকা স্বাভাবিক। তবে বোর্ডকে আরও শক্তিশালী করতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আইনজীবী ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্বল ভিত্তির ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সরকার এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিতে পারে।
আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের জন্য একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি ব্যক্তিগত কারণে যোগ দেননি। নতুন করে এমডি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইএআর/কেএসআর