ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন ঢালচর ইউনিয়ন। শত বছর ধরে মানুষের বসবাস। এক যুগের বেশি সময় ইউনিয়ন গঠিত হয়। এখানে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু আজও গড়ে ওঠেনি বেড়িবাঁধ। ফলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় ইউনিয়নটির বেশির ভাগ এলাকা। পানিবন্দি থাকে মানুষ। বিগত বিভিন্ন সরকারের আমলে আশ্বাস পেলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লিলাভূমি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন ঢালচর ইউনিয়নের অবস্থান। শত বছর ধরে মানুষের বসবাস শুরু হলেও ২০১০ সালের দিকে ইউনিয়ন হিসেবে গঠিত হয় ঢালচর। কিন্তু এখন পর্যন্ত উন্নয়নের কোনো ছোঁয়াই লাগেনি। আজও গড়ে ওঠেনি কোনো বেড়িবাঁধ। ফলে জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় বসতঘর ও গবাদিপশু। পানিবন্দি থাকতে হয় ঢালচরের মানুষদের। প্রতি বছরই ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয় ঢালচরবাসীর। বেড়িবাঁধ না থাকায় জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে কৃষিকাজ।
ঢালচর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. হোসেন জানান, ঢালচর ইউনিয়নে ১৯৭০ সালের বন্যার আগ থেকে মানুষের বসবাস শুরু হয়েছে। বর্তমানে ঢালচরের ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ১২ হাজার মানুষ বসবাস করছে।
বাসিন্দারা আরও জানান, ঢালচরের চারদিকে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা। কিন্তু আমাদের ঢালচরে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে ঢালচরের বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে যায়। অনেক কষ্ট করে আমরা বসবাস করি।
ওই ইউনিয়নের মাঝেরচর বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আল-আমিন জানান, কিছুদিন পর বর্ষার মৌসুম শুরু। তখন জোয়ারের পানিতে আবারও দুর্ভোগ পোহাতে হবে। যদি একটি বেড়িবাঁধ থাকতো তাহলে এমন কষ্ট করতে হতো না।
তারুয়া এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী আংকুরা বেগম জানান, বেড়িবাঁধ না থাকায় তারা অনেক ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে বসতঘর প্লাবিত হয়। ঘরের মধ্যে পানি চলে আসে। ফলে তারা খাটে আশ্রয় নেন। গত বছর তার ছাগল ও মুরগি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
মাঝেরচর বাজারের ব্যবসায়ী মো. শাহে আলম ফরাজী জানান, ভোলা জেলার শেষ সীমানা ঢালচরে তারা বাস করেন। ঢালচরের পরে আর কোনো জনবসতি নেই। চারদিকে নদী ও সাগর মোহনায় ঢালচরের অবস্থান। ঝড় ও বন্যা এবং জোয়ারের পানিতে প্রতি বছরই ঢালচরের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া অনেক গবাদিপশু ভেসে গেছে পানিতে।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সময় যারা ক্ষমতায় থাকে তারা বেড়িবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত ঢালচরে কোনো বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়নি। এখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আকুল আবেদন ঢালচরে বেড়িবাঁধের জন্য।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. মোরশেদ জানান, বেড়িবাঁধ না থাকায় ফসলি জমিতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। অনেক কৃষক লোকসান দিতে দিতে গত কয়েক বছর থেকে কৃষিকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। এখন ঢালচর ইউনিয়নে চাষাবাদ হয় না।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড’র (পাউবো-২) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, ঢালচর ভোলা জেলার দক্ষিণে চরফ্যাশন উপজেলায় অবস্থিত। এখানে বর্ষাকালে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। ঢালচরে সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা দরকার। কিন্তু ঢালচরের জন্য আপাতত প্রকল্প নেই। তবে দ্রুত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার চেষ্টা করবো। তখন চরবাসীর র্দীঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে।
এনএইচআর/এমএস