সব সময় বড় কোনো ঘটনা লাগে না। অনেক সময় প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই ধীরে ধীরে আমাদের মানসিক শান্তি ক্ষয় করে। আমরা টেরও পাই না - কেন যেন অস্থির লাগছে, মনোযোগ কমে যাচ্ছে, বিরক্তি বাড়ছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানসিক ক্লান্তির পেছনে বড় সংকটের চেয়ে ছোট ভুলের ধারাবাহিকতা অনেক বেশি দায়ী। চলুন দেখে নেওয়া যাক এমন কয়েকটি অভ্যাস, যা অজান্তেই আপনার মনের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
১. ঘুমকে অবহেলা করারাত জাগা, অল্প ঘুম বা অনিয়মিত ঘুম - এসবকে অনেকেই তেমন গুরুত্ব দেন না। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের ঘাটতি আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং উদ্বেগ বাড়ায়। নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে মস্তিষ্ক পরের দিনের জন্য ঠিকভাবে রিসেট হতে পারে না।
২. সবকিছুতেই ‘হ্যাঁ’ বলাঅন্যকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজের সীমা অতিক্রম করা মানসিক চাপ বাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে ‘না’ বলতে না পারলে ভেতরে জমতে থাকে ক্ষোভ ও ক্লান্তি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুস্থ সীমারেখা বা বাউন্ডারি না থাকলে মানসিক শান্তি টেকসই হয় না।
ঘুম থেকে উঠেই ফোন, ঘুমানোর আগেও ফোন - এ অভ্যাস মস্তিষ্ককে বিশ্রাম নিতে দেয় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলনা, নেতিবাচক খবর বা তথ্যের অতিরিক্ত চাপ মনকে অস্থির করে তোলে।
৪. নিজের সঙ্গে নেতিবাচক কথা বলা‘আমি পারব না’, ‘আমারই দোষ’ - এমন আত্মসমালোচনামূলক চিন্তা দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত আত্মদোষারোপ ডিপ্রেশন ও উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৫. বিশ্রামকে অলসতা ভাবাঅনেকেই মনে করেন, বিশ্রাম মানেই সময় নষ্ট। ফলে কাজের ফাঁকেও নিজেকে চাপের মধ্যে রাখেন। অথচ নিয়মিত বিরতি না নিলে মস্তিষ্কের মনোযোগ ও সৃজনশীলতা কমে যায়।
৬. তুলনার ফাঁদে আটকে থাকাঅন্যের সাফল্য দেখে নিজেকে ছোট মনে করা খুব সাধারণ অভ্যাস। কিন্তু প্রতিনিয়ত তুলনা আত্মতৃপ্তি নষ্ট করে। প্রত্যেকের জীবনপথ আলাদা - এই সত্যটি ভুলে গেলে অকারণ হতাশা বাড়ে।
রাগ, দুঃখ বা কষ্টকে অস্বীকার করলে তা হারিয়ে যায় না; বরং ভেতরে জমতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুস্থভাবে আবেগ প্রকাশ মানসিক ভারসাম্যের জন্য জরুরি।
মানসিক শান্তি একদিনে আসে না। প্রতিদিনের ছোট ভুলগুলো চিহ্নিত করে ধীরে ধীরে সংশোধন করাই সমাধান। মনে রাখবেন, মানসিক শান্তি কোনো বিলাসিতা নয় - এটি সুস্থ জীবনের ভিত্তি।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ
এএমপি/জেআইএম