জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের ফল প্রকাশের ১২ দিন পর গেজেট সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রায় ১১ লাখ ভোট কমে যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন।
আগে প্রকাশিত ফল সংশোধন কেন করতে হলো এবং ভোটের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ কেন কমে গেল— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তখন করণিক ভুল ছিল, ‘ট্রান্সপোজিশন এরর’ ছিল। যার কারণে এ ভুল হয়েছে। করণিক ভুল তো হতেই পারে, যেহেতু হাতে করা হয়। যেগুলো এদিক-ওদিক হয়েছে, সেগুলো সংশোধন করে পরে মাঠ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঠিক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মূল প্রতিপাদ্য ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’। ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা বেশি— এতে কোনো বিচ্যুতি হয়নি।
প্রথম গেজেটের হিসাব অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট মিলিয়ে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩।
এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ ভোট। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬।
সংশোধিত গেজেটের হিসাব অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১ জন। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট মিলিয়ে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬ ভোট।
বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১।
আগের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি।
এমওএস/কেএএ/