আন্তর্জাতিক

কাতারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৬

কাতারে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় ‘কারিগরি ত্রুটির’ কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২২ মার্চ) কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হেলিকপ্টারটিতে মোট সাতজন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় হেলিকপ্টারটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেটি দেশের জলসীমায় বিধ্বস্ত হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে কোনো শত্রুতামূলক হামলার ফল বলে মনে করা হচ্ছে না।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাইলট ক্যাপ্টেন মুবারক সালেম দাওয়াই আল-মার্রি, সার্জেন্ট ফাহাদ হাদি ঘানেম আল-খাইয়ারিন এবং করপোরাল মোহাম্মদ মাহের মোহাম্মদ—তারা সবাই কাতার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। এছাড়া কাতার-তুরস্ক যৌথ বাহিনীর মেজর সিনান তাসতেকিন এবং তুরস্কের দুই বেসামরিক সহযোগীও নিহত হয়েছেন।

নিখোঁজ রয়েছেন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর পাইলট ক্যাপ্টেন সাঈদ নাসের সামেখ।

তুরস্কের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছে। তারা নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের মধ্যে তাদের একজন সেনাসদস্য এবং তুর্কি প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘অ্যাসেলসান’-এর দুই কর্মী রয়েছেন।

তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাতারি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করবে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা

এই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো যখন কাতারসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কাতার বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে কাতারের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’-তে ইরানের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাতারএনার্জির সিইও সাদ আল-কাবি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানি হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বার্ষিক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/