লাইফস্টাইল

ভালোবাসা নাকি শুধুই কল্পনা, ক্রাশকে নিয়ে লিমেরেন্সে ভুগছেন না তো?

কৈশোর বা তরুণ বয়সে কারো প্রতি হঠাৎ করে তীব্র আকর্ষণ তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। প্রেমে পড়ার প্রথম দিনগুলো বা সম্পর্কে যাওয়ার আগের মুহূর্তগুলো ভাবলেই মন ভরে ওঠে অদ্ভুত এক আনন্দে। সারাদিন এক জনের সঙ্গে কথা বললেও ক্লান্তি আসে না, বরং আরও কথা বলার ইচ্ছা হয়। তার হাসি, কথা বা ছোট্ট কোনো কাজও মাথার মধ্যে বারবার ঘুরতে থাকে। ধ্যান-জ্ঞান যেন শুধু সেই ব্যক্তির উপরই কেন্দ্রীভূত হয়।

প্রথম দিকে সব কিছু খুবই আকর্ষণীয় মনে হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উত্তেজনা এবং মায়া কমতে শুরু করে। তখন অনেকেই উপলব্ধি করেন, এটি ছিল কেবল একটি ইনফ্যাচুয়েশন-অর্থাৎ ক্ষণস্থায়ী মোহ বা আকর্ষণ।কখনো কখনো এই ইনফ্যাচুয়েশন এতটাই গভীর হয়ে যায় যে মানুষ এটিকেই প্রকৃত প্রেম ভেবে বসেন। পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ অনুভূতিগুলো খুব বাস্তব মনে হয়। এই ধরনের অনুভূতি শুধু কয়েক সপ্তাহের নয়, বরং মাস বা বছরের পর বছরও মনে থেকে যেতে পারে।

তখন মনে হয় এটি ভালোবাসা, নাকি শুধুই কল্পনা? মনোবিজ্ঞানে এই অনুভূতির একটি নাম আছে-‘লিমেরেন্স’।

লিমেরেন্স কীলিমেরেন্স হলো এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে আপনি কারো প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং সেই ব্যক্তিকে নিয়ে প্রায় সব সময়ই ভাবতে থাকেন। তার প্রতিটি ছোট কাজ, একটি মেসেজ বা একটি হাসি-সবকিছুই আপনার কাছে অনেক বড় মনে হয়। আপনি বারবার ভাবেন, সেও কি আপনাকে একইভাবে পছন্দ করে? এই অনিশ্চয়তাই লিমেরেন্সকে আরও তীব্র করে তোলে।

এই ধারণা যেভাবে এলো‘লিমেরেন্স’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন আমেরিকান মনোবিদ ডরোথি টেনভ। তিনি দেখেন, অনেকের মধ্যেই এমন প্রবণতা দেখা দেয়। সাধারণ ক্রাশের থেকে এটি অনেক বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ জীবনে অন্তত একবার লিমেরেন্সের শিকার হন। অনেকেই এই অতিমাত্রার আসক্তি বা ইনফ্যাচুয়েশনকেই গভীর ভালোবাসা মনে করেন।

লিমেরেন্সে ভুগলে বুঝবেন যেভাবেলিমেরেন্সের প্রধান লক্ষণ হলো কারো প্রতি তীব্র আকর্ষণ, তার কাছ থেকে সামান্য মনোযোগ পেলেই অত্যন্ত আনন্দিত হওয়া। সামান্য উপেক্ষা পেলে অতিরিক্ত কষ্ট। সেই ব্যক্তির আচরণ নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ এবং কল্পনার জাল বিস্তারও করেন। উদাহরণস্বরূপ, একটি মেসেজ দেরিতে আসলেই উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা শুরু হয়ে যাওয়া।

যে কারণে হয়বিশেষজ্ঞদের মতে, লিমেরেন্স সাধারণত অনিশ্চিত বা অস্পষ্ট সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। যখন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ স্পষ্ট নয় বা বিপরীত দিকের মানুষ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে না, তখন অবস্থা আরও জটিল হয়। মানুষ বাস্তব থেকে দূরে সরে গিয়ে কল্পনার জগতে সম্পর্ককে বড় দেখার চেষ্টা করেন।

এটি মূলত মস্তিষ্কের ডোপামিন-চালিত প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। নতুন প্রেমের উত্তেজনা, প্রত্যাশা ও অনিশ্চয়তা মিলে মস্তিষ্কে একধরনের ‘হাই’ তৈরি করে। ফলে মানুষ আরও বেশি করে সেই ব্যক্তির দিকে ঝুঁকে পরেন। কিন্তু এটি স্থায়ী নয়; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হতাশা, ক্লান্তি এবং মানসিক চাপও তৈরি হতে পারে।

লিমেরেন্স ও ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্যলিমেরেন্স এবং সত্যিকারের ভালোবাসার মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, সত্যিকারের ভালোবাসায় থাকে পারস্পরিক বোঝাপড়া, স্থিরতা ও সম্মান। লিমেরেন্সে থাকে অস্থিরতা, অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং কল্পনাপ্রবণতা।এই অবস্থা থেকে বের হতে হলে প্রথমে নিজের অনুভূতিকে সঠিকভাবে বোঝা জরুরি। বাস্তবতা মেনে চলা, নিজের জীবন ও লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়া, এবং সীমা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে বন্ধু বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

সূত্র:মিডিয়াম, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:নতুন ট্রেন্ডে কেন জেন জিরা পুরোনো প্রেমের রীতিতে ফিরছে সন্দেহে ভাঙছে সম্পর্ক, কারণ কী রিলেশনশিপ ওসিডি? 

এসএকেওয়াই