আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে আমিরাতের শেয়ারবাজারে ধস, উধাও ১২ হাজার কোটি ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে বড় ধাক্কা খেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেয়ারবাজার। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ হাজার কোটি ডলার) বাজারমূল্য উধাও হয়ে গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই প্রধান শেয়ারসূচক (দুবাই ও আবুধাবি) ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যথাক্রমে প্রায় ১৬ শতাংশ ও ৯ শতাংশ কমেছে।

তথ্য অনুযায়ী, দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের সাধারণ সূচক থেকে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য কমে গেছে। অন্যদিকে বৃহত্তর আবুধাবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ সূচক হারিয়েছে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন>>ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হওয়া বিপুল অর্থ দিয়ে কী কী করা যেতো?রেকর্ড পতন/ ইতিহাসে প্রথমবার ৯৫ ছাড়ালো ভারতীয় রুপির দরবিশ্ববাজারে সোনার দামে ৪৩ বছরের সবচেয়ে বড় পতন

একই সময়ে কাতার ও বাহরাইনের শেয়ারবাজার যথাক্রমে প্রায় ৪ ও ৭ শতাংশ বাজারমূল্য হারিয়েছে। তবে সৌদি আরব এবং ওমানের বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

উরান যুদ্ধের প্রভাব দেখা গেছে বিশ্বের অন্যান্য বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ একই সময়ে প্রায় সাত শতাংশ কমেছে। এটি যুদ্ধের সময়কাল ও লক্ষ্য নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে আমিরাত তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির পর্যটন ও ভ্রমণ খাত বড় আঘাত পেয়েছে। যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, বিশেষ করে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রুটগুলোতে, যা আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে বিশ্বের ব্যস্ততমগুলোর একটি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আমিরাতের অর্থনীতিতে পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের অবদান ছিল প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার, যা মোট জিডিপির ১৩ শতাংশ।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধসকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট হিসেবে না দেখে সাময়িক ধাক্কা হিসেবে দেখা উচিত। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ইন দুবাইয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাইথাম আউন বলেন, এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় স্বল্পমেয়াদি প্রভাব ফেললেও আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য বড় হুমকি নয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রের শক্তি শুধু সংকটের সময় বাজারের পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, বরং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা দিয়েও নির্ধারিত হয়।

বৈশ্বিক মানদণ্ডে আমিরাতের শেয়ারবাজার তুলনামূলক ছোট হলেও অর্থনীতির বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে দেশটি আর্থিক খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির তালিকাভুক্ত শেয়ারের মোট মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ায়, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/