গরম পড়লেই এসি ছাড়া যেন জীবন কল্পনাই করা যায় না। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে এখন অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান এসির ঠান্ডা ঘরে। অফিসে ৮-৯ ঘণ্টা টানা এসিতে থাকার পর বাসায় ফিরেও একই অভ্যাস চালু থাকে। ধীরে ধীরে এটি এক ধরনের নির্ভরশীলতায় পরিণত হয়। কিন্তু এই আরামের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা অনেকেই বুঝতে পারেন না।
মানুষের শরীর স্বাভাবিকভাবে বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। গরমে শরীর ঘাম ঝরিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং এতে ক্যালোরিও খরচ হয়। কিন্তু সবসময় ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে শরীরের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে শরীর কম সক্রিয় হয়ে পড়ে এবং বিপাকীয় হার ধীরে ধীরে কমে যায়।
ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিদীর্ঘ সময় এসিতে থাকলে শরীরের ক্যালরি পোড়ানোর হার কমে যায়। পাশাপাশি ঠান্ডা পরিবেশে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কম নড়াচড়া করে এবং বেশি সময় বসে থাকে। এই অলস জীবনযাত্রা ধীরে ধীরে শরীরে চর্বি জমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
ক্লান্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়াএসি চালু থাকা ঘরের বাতাস সাধারণত একই জায়গায় ঘুরতে থাকে। এতে টাটকা অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এর ফলে মাথা ভার লাগা, ক্লান্তি, ঝিমুনি এবং মনোযোগের ঘাটতির মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় এই পরিবেশে থাকলে কাজের দক্ষতাও কমে যেতে পারে।
এসি ঘরের বাতাস ঠান্ডা হলেও তা বেশ শুষ্ক হয়। এই শুষ্ক বাতাস শরীর থেকে আর্দ্রতা টেনে নেয়, যার ফলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। এতে গলা শুকিয়ে যাওয়া, ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফেটে যাওয়া এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ধীরে ধীরে এই সমস্যাগুলো শরীরকে আরও দুর্বল করে তোলে।
নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবেএসি ব্যবহার করতেই হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। সারা দিনে বারবার পানি পান করুন, যাতে শরীরে পানির ঘাটতি না হয়। প্রতি এক ঘণ্টা পরপর কিছুটা হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করলে শরীর সক্রিয় থাকে। মাঝে মাঝে খোলা বাতাসে গিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটান, এতে শরীর সতেজ থাকবে। খুব কম তাপমাত্রায় এসি চালানো এড়িয়ে চলুন, কারণ অতিরিক্ত ঠান্ডা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকার অভ্যাস কমিয়ে দিন।
এসি আমাদের জীবনে আরাম এনে দিলেও অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার এবং কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললেই এই সমস্যাগুলো এড়ানো সম্ভব। মনে রাখবেন, আরামের চেয়ে সুস্থতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, মিডিয়াম
এসএকেওয়াই