দেশজুড়ে

মাছ ধরার আড়ালে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে ২০ হাজার মানুষ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। মাছ ধরার জন্য নদী ইজারা নেওয়ার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ২০ হাজার মানুষের বসতি হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার বালিখোলা ফেরিঘাট সংলগ্ন সূতারপাড়া গ্রামের সামনে ধনু নদীতে মাসের পর মাস ধরে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রতিদিন শত শত নৌকায় করে নদী থেকে বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারের কাছ থেকে নদী ইজারা নেওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল মাছ ধরার পাশাপাশি অন্তত পাঁচটি ড্রেজার বসিয়ে প্রতিদিন ব্যাপক পরিমাণ বালু উত্তোলন করছে। ফলে সূতারপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে এবং ফসলি জমিতে বড় গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা শেষে নদীতীরের জমিতে তারা আলু, ভুট্টা ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতেন। কিন্তু অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে এসব জমি দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা হতাশ ও আতঙ্কিত।

ভুক্তভোগী মানিক মিয়া বলেন, প্রভাবশালী একটি চক্র ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ একর জমি দখলে নিয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উভয় দলের কিছু অসাধু ব্যক্তি এ কর্মকাণ্ডে জড়িত।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা নূরুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে নদী ইজারার অপব্যবহার করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং গ্রামবাসী জমি হারিয়ে চরম সংকটে পড়ছে।

মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কারণে বিঘার পর বিঘা জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের গতি অব্যাহত থাকলে শিগগির বসতবাড়িও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই উদ্বেগ প্রকাশ করে আলতাফ হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে বালু উত্তোলনের ফলে নদী এখন বসতভিটার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর যদি ১০০ থেকে ২০০ ফুট করে ভাঙন অব্যাহত থাকে, তবে অচিরে ২০ হাজার মানুষের এ জনপদ মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে। তিনি এ ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে সূতারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জাহিদুর হক জানান, নদী ইজারা দেওয়া হয়েছিল মাছ ধরার জন্য। কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এ কাজে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে। স্থানীয় মানুষের স্থায়ী সমাধান চায়।

অভিযোগের বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে পরিবেশের ক্ষতি করা হলে প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এসকে রাসেল/আরএইচ/এএসএম