দেশজুড়ে

যশোরে তেলের জন্য লম্বা লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

যশোরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য যেনো যুদ্ধ চলছে। কোনো কোনো পাম্পে তেল মিলছে; কোথাও মিলছে না। যে পাম্পে তেল মিলছে সেখানে তেলের জন্য লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার তেলের এ লাইনেও হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। কোথাও কোথাও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র লাইন নিয়ন্ত্রণের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। অথচ প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে তা মিলছে না বলে অভিযোগ পাম্প সংশ্লিষ্টদের।

বুধবার (৮ এপ্রিল) যশোরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে এ চিত্র উঠে এসেছে।

শহরের ঘোপ এলাকার তারিক হোসেন পেট্রোলের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে লাইন দিয়েছেন খাজুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। বেলা ১১টায় লাইন দিয়ে দুপুর দুটায় উপ-শহর পেট্রোল পাম্পের প্রবেশপথ পর্যন্ত পৌঁছেছেন। তিনি জানালেন, তিন ঘণ্টা তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ৫শ’ টাকার তেল দিচ্ছে। তাও আবার ফুরিয়ে যায় কিনা সেই আশঙ্কায় আছি। তেলের যদি ঘাটতি না থাকে তাহলে সব পাম্পে যদি একযোগে তেল দেয় তাহলে তো এ লাইন পড়ে না।

লাইনে দাঁড়ানো মধ্যবয়সী রফিকুল ইসলাম জানালেন, সুষ্ঠুভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিলে সমস্যা হয় না। কিন্তু নানান কায়দায় লাইন ভেঙে উল্টো পাশ থেকে এসে তেল নিয়ে যাচ্ছে। দু’একজন পুলিশ যা আছে তারা শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে না।

উপশহর পাম্পের ম্যানেজার কামাল হোসেন জানালেন, বুধবার তারা ৬ হাজার লিটার ডিজেল ও ৩ হাজার পেট্রোল পেয়েছি। রেশনিং করে বিক্রি হচ্ছে। লাইনে কিছু বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন কিছু বলছে না। ফলে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

একই চিত্রের দেখা মিললো মণিহার এলাকার মনিরউদ্দিন পেট্রোল পাম্পে। সেখানে তেলের লাইন পৌঁছেছে আধা কিলোমিটার ছাড়িয়ে বিসিএমসি কলেজ পর্যন্ত। শুধু মোটরসাইকেল নয়, প্রাইভেট কার, ট্রাক সবই আছে লাইনে। পাম্পের গেটে কথা হয় বকচর এলাকার শামীম হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, বেলা সাড়ে ১১টায় লাইন দিয়ে দুপুর আড়াইটা পার হয়ে গেছে। এখনও পাম্পে ঢুকতে পারেননি। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে তেল নিতে গিয়ে তো দিন পার হয়ে যাচ্ছে।

বেজপাড়া এলাকার পারভেজ আনোয়ার জানালেন, এখানে দুই তিনটা লাইন দাঁড় করানো হয়েছে। কেউ কেউ লাইনের বাইরে গিয়েও জোর করে তেল নিচ্ছেন। এ নিয়ে ঠেলাঠেলিও হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের ভূমিকা পাওয়া যাচ্ছে না।

মনির উদ্দিন পাম্পের কর্মকর্তা আবু হুরায়রা জানান, তারা প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার লিটার ডিজেল, তিন হাজার লিটার অকটেন ও তিন হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রি করছেন। প্রতিদিন তেল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় একটি গ্রুপ মোটরসাইকেল নিয়ে ঢুকে পড়ছে এবং তারা নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

মনির উদ্দিন পাম্পের স্বত্বাধিকারী এসএম খালিদ জানান, একটি গ্রুপ হ্যাডাম দেখিয়ে নিজেরা ইচ্ছেমতো তেল নিয়ে যাচ্ছে। ৯৯৯ বা প্রশাসনের কাছে ফোন করেও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। যে দুয়েকজন পুলিশ রয়েছেন তারা কিছুই করতে পারছেন না।

এদিকে উপ-শহর এলাকার মকবুল ফিলিং স্টেশনে দেখা মিলেছে লম্বা লাইনের। পেট্রোল পাম্প ছাড়িয়ে লাইন গিয়ে ঠেকেছে ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের মুখ পর্যন্ত। এখানে কথা হয় উপশহর বি-ব্লকের বাসিন্দা বাবর আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, বেলা ১১টায় লাইন দিয়ে দুপুর দুইটায় পাম্পে পৌঁছেছেন। সকাল ৮টা থেকে পাম্পে তেল দেওয়া হচ্ছিল। এখন বিরতি চলছে বিরতি শেষ হলে তেল পাবেন বলে আশায় রয়েছেন। তবে এভাবে প্রতিদিন লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি, এ আজাব থেকে মুক্তি চান।

স্থানীয় কয়েকজন জানালেন, এখানে একটি লাইনে তেল দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও তারা সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করেছেন। ফলে সুশৃঙ্খলভাবে তেল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ শৃঙ্খলা রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রশাসনের খুব একটা সহযোগিতা মিলছে না।

মকবুল ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী শবনম মুস্তারি বলেন, তিনি সোমবার তিন হাজার লিটার ডিজেল, দুই হাজার লিটার অকটেন ও তিন হাজার লিটার পেট্রোল পেয়েছিলেন। ডিজেল, অকটেন শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।

এ পাম্পগুলোয় তেল মিললেও উপ-শহরের প্রান্তিক পেট্রোলিয়াম বন্ধ। পাম্পের ম্যানেজার মোসলেম শেখ জানালেন, মঙ্গলবার ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও সাড়ে ৫ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছিলেন। ওইদিন তা শেষ হয়ে গেছে। তাই বুধবার আর তেল বিক্রি করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার তেল পেলে আবার বিক্রি করবেন।

মিলন রহমান/আরএইচ/এএসএম