চাহিদায় বেড়েছে টাঙ্গাইলের লেবুর দাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
লেবু বাগানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা, ছবি: আব্দুল্লাহ আল নোমান

পবিত্র মাহে রমজানে ইফতারে তৃষ্ণা মেটাতে শরবতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলে বেড়েছে লেবুর চাহিদা ও দাম। মৌসুম না থাকায় সরবরাহ তুলনামূলক কম আর সেই সুযোগে বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলাকে লেবুর রাজধানী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। এ ছাড়া সখিপুর, মির্জাপুর, ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলাতেও ব্যাপকভাবে লেবুর বাগান গড়ে উঠেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় টাঙ্গাইলের লেবু সরবরাহ করা হয়।

চাহিদায় বেড়েছে টাঙ্গাইলের লেবুর দামরমজানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে লেবু চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাহিদা বেশি থাকায় পাইকারি বাজারে প্রতি মণ লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায়। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়।

স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, ইফতারে লেবুর শরবতের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে একটি সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

লেবু চাষিরা জানান, লেবু চাষে তুলনামূলক কম পরিশ্রম ও কম খরচ হয়। রোগবালাইয়ের ঝামেলাও কম। একটি গাছ দীর্ঘদিন ফল দেয়। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক ধানসহ অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে লেবু চাষে ঝুঁকছেন।

চাহিদায় বেড়েছে টাঙ্গাইলের লেবুর দামদেলদুয়ার উপজেলার লেবু চাষি কাজি আব্দুল মানিক বলেন, ‘রমজানে চাহিদা বেশি থাকলেও এখন লেবুর মূল মৌসুম নয়। উৎপাদন কম থাকায় দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ লেবু ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। ভালো দাম পাওয়ায় আমরা খুশি।’

লেবুর বাগানের শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তারা বাগান পরিচর্যার কাজ করছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছর জেলায় ১ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন।

চাহিদায় বেড়েছে টাঙ্গাইলের লেবুর দামজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলা লেবু উৎপাদনে অন্যতম। কৃষি বিভাগ থেকে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে চারা ও সার বিতরণসহ সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারা বছর চাষযোগ্য উন্নত জাতের লেবু কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। অল্প খরচে সহজেই লেবু চাষে লাভবান হওয়া সম্ভব।’

এমএএএন/জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।