নরসিংদীর চরে বাড়ছে বাদাম চাষ, কৃষকের মুখে হাসি
কম খরচ, কম পরিশ্রমে বেশি ফলন এবং বাজারে ভালো দামের কারণে নরসিংদীর চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষ। এতে কৃষকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আগ্রহ ও সম্ভাবনা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাদামের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর চাহিদাও বাড়ছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বাদাম চাষের পরিধি আরও বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও বিনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বীজ সহায়তা, প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল চাঁনপুর, মাঝেরচর, মৌহিনিপুর, সদাগর কান্দি, সদর উপজেলার চরদিঘলদী ও আলোকবালী এবং বেলাবো উপজেলার চর বেলাবো এলাকায় সবচেয়ে বেশি বাদাম চাষ হচ্ছে। আগের তুলনায় বাদামের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে আবাদ।
কৃষকদের ভাষ্য, বাদাম চাষে সার বা বিষের প্রয়োজন হয় না। ফলে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এক বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা সম্ভব। এ ছাড়া বাদাম চাষ শেষে একই জমিতে অন্য ফসল চাষও করা যায়।

রায়পুরার মাঝেরচর গ্রামের কৃষক করিম মিয়া বলেন, ‘এ বছর প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আল্লাহ ভরসা, ফসল ভালো হলে ৫ লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে।’
জেলায় চলতি মৌসুমে ২৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আবাদ হয়েছে প্রায় ৩১০ হেক্টর জমিতে। তাই বাদাম সংগ্রহ, শুকানো ও বাছাইসহ বিভিন্ন ধাপে স্থানীয় নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সালাউদ্দিন টিপু জানান, যেসব জমিতে অন্য ফসল হয় না; সেসব পতিত জমিতে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন বাড়ছে, কৃষক লাভবান হচ্ছেন। আমরা নিয়মিতভাবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’
এসইউ