মিরসরাইয়ে সরিষা ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা, আবাদ বেড়েছে ৬২৫ হেক্টর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ২৩ মার্চ ২০২৬
মিরসরাইয়ে সরিষা ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। দিগন্তজোড়া মাঠে সরিষা ফুলের হলুদের সমারোহ শেষে ফলনের ভারে সরিষা গাছ নুয়ে পড়েছে। এখন চলছে ফসল কাটার ধুম। ফলন যেমন ভালো হয়েছে তেমনি ভালো দামের আশা কৃষকদের। এই উপজেলায় দিন দিন সরিষা আবাদ বাড়ছে। কম খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় চাষিদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। যা বিগত ৫ বছরের ব্যবধানে ৬২৫ হেক্টর জমি বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ হেক্টর বেড়ে আবাদ হয় ৫০ হেক্টর। ২০২১-২২ অর্থবছরে আরও ১০ হেক্টর বেড়ে আবাদ হয় ৬০ হেক্টর। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসে আবাদ আরও বেড়ে যায়। ওই অর্থবছরে ৩২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩০৫ হেক্টর বেড়ে সরিষা আবাদ হয় ৬২৫ হেক্টর জমিতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরিষা আবাদ হয় ৬৫০ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এবার উপজেলার দুর্গাপুর, খৈয়াছড়া, ইছাখালী, ওয়াহেদপুর ও করেরহাট ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সরিষা আবাদ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করায় চাষের পরিধি বেড়েছে। এছাড়া আগের তুলনায় এই উপজেলায় সরিষা তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। অতি অল্প সময়ে, অল্প পুঁজিতে সরিষা খুবই লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকরা এখন সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

খৈয়াছরা ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামের কৃষক বিপুল দাশ বলেন, আমি প্রতিবছর সরিষার আবাদ করে থাকি। এবারও এক একর জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। আমি নিজেই সরিষা থেকে তেল উৎপাদন করে বাজারজাত করে থাকি।

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা একরামুল হক জানান, এই বছর অনলাইন থেকে সরিষা বীজ সংগ্রহ করে ৫৪ শতক জমিতে প্রথম চাষ করেছি, ফলন ভালো হয়েছে। একটি জমিতে বারি-১৭ ও অন্যটিতে বারি-১৪ চাষ করেছি। আমার থেকে দেখে অনেকে আগ্রহী হয়ে আগামী বছর চাষ করার জন্য বীজ সংগ্রহ করবেন।

অপর কৃষক নুরুল আবছার বলেন, গত বছর অল্প চাষ করেছি, লাভ বেশি হওয়ায় এই বছর তিনটি জমিতে চাষ করেছি। নিজেদের চাষ করা সরিষা বাজারে নিয়ে ভাঙিয়ে নিজেরা সারাবছর এই তেল খেয়ে থাকি। সয়াবিন তেল আর কিনতে হয়না আমার।

ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন টিপু জানান, নিজের পরিবারের জন্য অল্প জমিতে সরিষা আবাদ করেছিলাম। এখন বেশি করে আবাদ করছি, বাজারজাত করার জন্য।

জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মনজুর হায়দার বলেন, আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত জোরারগঞ্জ এলাকায় চলতি বছর ১৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এখানকার কৃষকদের প্রচেষ্টায় ও সরকারি সহায়তায় ক্রমান্বয়ে চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, উপজেলায় চলতি বছর ৫ হাজার কৃষক সরিষা চাষ করছেন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিগত ৫ বছরের ব্যবধানে সরিষা চাষ অনেকগুন বেড়েছে। সরিষা চাষে স্থানীয়দের ভোজ্য তেলের চাহিদা যেমন মেটাচ্ছে তেমনি এ অর্থকরী ফসল ভূমিকা রাখছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও।

এমএমডি/এমআইএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।