ভালো দামেও লোকসানের মুখে মিষ্টি কুমড়া চাষিরা
বাজারে মিষ্টি কুমড়ার দাম তুলনামূলক ভালো হলেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন মানিকগঞ্জ জেলার চাষিরা। কৃষকদের অভিযোগ, প্রত্যাশিত ফলন না পাওয়ায় বাড়তি দামও তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারছে না। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি, এ বছর মিষ্টি কুমড়া চাষিরা ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় বেশ লাভবান হচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলায়ই কমবেশি মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিংগাইর, সদর ও ঘিওর উপজেলার চাষিরা এ মিষ্টি কুমড়া আবাদ বেশি করেন। জেলার চাষিরা বেঙ্গল ১, বেঙ্গল ২, ব্ল্যাক স্টোন, সুইটি, কল্যাণী, রঙিলা, থাইল্যান্ড ১, থাইল্যান্ড ২, সুইট লেডি, সুইট স্পট, হাজারি, সুপ্রিয়া ও বারোমাসি জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করেন।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় মোট ৭৩৭ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ২১ হাজার ২৮৬ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৩৭ হেক্টর জমিতে। যা ছাড়িয়ে এ বছর আবাদ হয়েছে ৮০৯ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ২৮৫ মেট্রিক টন। তবে এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হয়েছে ২৩ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন।

সরেজমিনে জানা যায়, সিংগাইর উপজেলায় ফলন ভালো হলেও এ বছর ঘিওর উপজেলার চাষিদের খারাপ অবস্থা। লাভের আশায় মিষ্টি কুমড়া আবাদ করে এখন তারা খরচ ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। গত বছর ১ বিঘা জমিতে ফলন হয়েছিল ৩ থেকে ৪ টন। সেই জমিতে এ বছর উৎপাদন হয়েছে ১ থেকে ২ টন। যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেক। পাশাপাশি আছে বিভিন্ন রোগবালাই। পরিপক্ব হওয়ার আগেই পচে যাচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। এতে কৃষকদের লোকসানের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
ঘিওর উপজেলার পুরাতন ঘিওরের মো. পাপ্পু মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর ৫ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া আবাদ করি। গত বছর দাম কম থাকলেও ফলন হয়েছিল বেশ ভালো। তাই কিছু টাকা লাভ হয়েছিল। এ বছর তো কুমড়ার দাম ভালো কিন্তু ফলন একেবারেই নেই বললেই চলে। গত বছর যে জমিতে বিঘাপ্রতি জমিতে ৩ থেকে ৪ টন কুমড়া হয়েছে। এ বছর ওই জমিতে বিঘাপ্রতি হয়েছে ১ থেকে ২ টন।’
একই এলাকার সাইফুদ্দিন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বছর বিঘাপ্রতি চাষাবাদে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি আছে। যে ফলন হয়েছে, আমাদের খরচ উঠবে কি না সেই চিন্তায় আছি। এর মধ্যে আবার কুমড়া পাকার আগেই পচন ধরছে। এ বছর অনেক টাকার ক্ষতি হয়ে যাবে। আলু চাষ করেও আমাদের অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে।’

ইসমাইল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের প্রধান কাজ কৃষিকাজ। কিন্তু এ বছর আলু চাষ করেও ধরা খেয়েছি। আবার মিষ্টি কুমড়া চাষ করেও ধরা খেলাম। আমি মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করি গত ১৪ বছর ধরে। এমন কখনো হয় নাই। গাছ বড় হয়েছে কিন্তু কুমড়ার ফলন কম। এই বছর আমরা প্রথম দেখলাম।’
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহজাহান সিরাজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘হয়তো এক-দুজন কৃষকের ফসল কম হতে পারে। কিন্তু সার্বিক বিষয় বলতে গেলে, এ বছর ভালো ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।’
মো. সজল আলী/এসইউ