দেশজুড়ে

নওগাঁয় সোনালী ব্যাংকে গ্রাহকদের ভোগান্তি

ব্যাংকে লেনদেনের আজ ছিল শেষ দিন। ঈদকে ঘিরে ব্যাংকটিতে কয়েক দিন ধরে লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় জনবল কম থাকায় অর্থ লেনদেনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। নওগাঁ শহরের হোটেলপট্টির একটি ভবনে সোনালী ব্যাংকের শাখাটি অবস্থিত। ঈদকে ঘিরে গ্রাহক ও সরকারি সব ধরনের লেনদেন বেড়ে গেছে। বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ওই শাখায় বেতন, পেনশন ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কাজের বিল তুলতে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।  শাখা সূত্রে জানা যায়, এই শাখা থেকে বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, উন্নয়নমূলক কাজের বিল, শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ও অবসর ভাতা উত্তোলন করা হয়। সোনালী ব্যাংক নওগাঁ শাখায় ৪০ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছেন। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার গ্রাহক এখান থেকে সেবা নিয়ে থাকেন। এ শাখায় অন্যান্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থাকায় প্রতিদিন গ্রাহক লেনদেন ৯ থেকে ১০ কোটি টাকাসহ প্রায় ৩০ কোটি টাকার মতো লেনদেন হয়।শহরের উকিল পাড়া থেকে ব্যাংকে টাকা তোলার জন্য এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত সিরাজুস সালেকী। তিনি জানান, সকাল ৯টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তার সামনে প্রায় ৩০ জনের মতো সিরিয়ালে আছেন। গত চারদিন ভিড়ের কারণে অপেক্ষায় থাকার পর বাড়িতে চলে গেছেন। কিন্তু আজ টাকা তুলে নিয়ে যাবেন।শিক্ষক নূরুল ইসলাম জানান, নওগাঁ জেলা সদরে সোনালী ব্যাংকের মাত্র একটি শাখা হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অন্য কোনো সরকারি ব্যাংক থেকে দেয়ার ব্যবস্থার দাবি জানান।অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, সকাল ১০ টায় লাইনে এসে দাঁড়িয়েছেন। গত দুইদিন তিনি ব্যাংকে এসে ভিড়ের কারণে ফিরে গেছেন। ব্যাংক থেকে পেনশনের টাকা তুলে ঈদের কেনাকাটা করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত টাকা তুলতে পারিনি।আয়েজ উদ্দিন এসেছেন সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন নওগাঁ থেকে প্রায় ১০কিলোমিটার দূরে। কিছুটা অসুস্থ থাকায় লাইনে সিরিয়াল দিয়ে পাশে একটি বেঞ্চে বসে আছেন। তিনি বলেন, শুধু ঈদ না, প্রতি মাসের ১-১৫ তারিখ পেনশনের টাকা উত্তোলন করতে এসে এ ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রায় ৪ হাজার ৬০০ জনের মতো অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আছি। ব্যাংক কর্মকতা যদি এই অবসর প্রাপ্তদের ১-৫০০ জন, ৫০১- ১ হাজার জন এভাবে সিরিয়াল করে দিতো তাহলে আর ভোগান্তি পোহাতে হতো না। নওগাঁ শাখার সহকারী সাধারণ ব্যবস্থাপক (এজিএম) আশরাফুল জাহাঙ্গীর জানান, প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম এবং সব ধরনের সরকারি লেনদেন হওয়ায় গ্রাহকের চাপটা অনেক বেশি থাকে। আমরা যথাসাধ্য গ্রাহকদের সেবা দেওয়র চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আমরা কথা বলবো তাদের আলাদা আলাদা তারিখে পেনশনের টাকা তোলার জন্য। তাহলে তাদের হয়রানি হতে হবে না এবং ব্যাংকে চাপও কম থাকবে।আব্বাস আলী/এসএস/এবিএস