টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সব কয়টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার হাওর-বাঁওড় ও নদ-নদীর পানি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। বৃহস্পতিবার বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্ট দিয়ে পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দিন। তিনি বলেছেন, লাগাতার বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং ভারতের বরাক উপত্যকায় পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার সব কয়টি নদীতে ব্যাপকহারে পানি বেড়েছে।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার নবীনগর, বড়পাড়া, আরপিননগর এলাকায় নদীর পাড় ডুবে সড়কে পানি প্রবেশ করায় কিছু কিছু বাসা-বাড়ির মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ঢলে সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, ধর্মপাশা, দিরাইসহ ১১টি উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন সহস্রাধিক পরিবার। এদিকে, সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। ঢলের কারণে জেলার সর্ববৃহৎ বালি-পাথর মহাল ধোপাজান, জাদুকাটা নদীর বালি-পাথর সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন অন্তত ৫০ হাজার শ্রমিক। অপরদিকে হাওর এলাকার গবাদিপশু নিয়ে গো-খাদ্যের সংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সুনামগঞ্জ শহরতলীর হাছননগর এলাকার বাসিন্দা নারী সাংবাদিক নাছরিন আক্তার ডলি এ প্রতিবেদককে বলেন, তার বাসার কাছাকাছি পানি ছুঁই ছুঁই করছে। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে পরিবার নিয়ে শংকায় রয়েছেন। তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কালাম, হাজেরা বেগম জানান, শ্রীপুর বাজার, শ্রীপুর, মাটিয়াইন, নয়াবন্দ, খালাশ্রীপুর, উজ্জলপুর, মন্দিয়াতা, তরং, শিবরামপুরসহ অন্তত ৩০টি গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জরুরি ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সার্বক্ষণিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির উপর নজরদারি রয়েছে। এসএস/পিআর