দেশজুড়ে

পুলিশ বাহিনী দেশের জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাদের জীবন বাজি রেখে প্রতিবার দেশের জন্য-দেশের মায়ায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে। আজকের একটা সফল অভিযানের মাধ্যমে সেটা প্রমাণ করেছে।গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় পুলিশের অভিযান শেষে এক প্রেস বিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। শনিবার দিনব্যাপী কাউন্টার টেরোরিজম, সোয়াত ও গাজীপুর পুলিশের যৌথ অভিযান চলাকালে বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তিনি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, পাতারটেক এলাকায় অভিযানে সাতজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন পুলিশের এক অফিসার। কাউন্টার টেরোরিজম, সোয়াত ও গাজীপুর পুলিশ এই সফল অভিযানটি পরিচালনা করে আমরা নিশ্চিত তামিম চৌধুরীর পরে যে জঙ্গিদের নেতৃত্ব দিত তার ছদ্ম হোক আর টাইটেল নাম হোক তার নাম ছিল আকাশ। সে এখানে নিহত হয়েছে। নিহত এই সাতজনের মধ্যে সে একজন।তিনি বলেন, একের পর এক জঙ্গি আস্তানা আমরা গুঁড়িয়ে দিচ্ছি। আজকে সাতজন জঙ্গি এখানে অবস্থান করছিল। আমাদের পুলিশ বাহিনী তাদের আত্মসমর্পণ করার অনুরোধ করে। তারা আত্মসমর্পণ না করে উপর্যুপরি গুলিবর্ষণ শুরু করে। শুধু গুলিবর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা, গ্রেনেড নিক্ষেপ শুরু করে। আমাদের পুলিশ বাহিনী, সোয়াত বাহিনী, কাউন্টার টেরোরিজম, জেলা পুলিশ ও হেড কোয়ার্টার্স যৌথভাবে  ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। এই গোলাগুলির মধ্যেও তাদের বারবার বলার পরও তারা আত্মসমর্পণ করেনি। আত্মসমর্পণ না করায় আমাদের যৌথবাহিনী এই আক্রমণটি পরিচালনা করে। এখানে আমরা এ পর্যন্ত সাতটি মরদেহ পেয়েছি। ৩টি অস্ত্র, একটি গ্যাস সিলিন্ডার, বেশ কিছু চাপাতি পেয়েছি। এ অপারেশনে একজন পুলিশ অফিসার আহত হয়েছেন। হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিনি। তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ১৩/১৪টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের দৃশ্য আমাদের পুলিশ বাহিনী প্রত্যক্ষ করেছে। এ অভিযানে সোয়াত টিমের এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন কিন্তু লাইফ জ্যাকেট থাকায় তিনি তেমন আহত হননি।তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সারাদেশের মানুষ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক হয়েছে। এখানেও তার প্রমাণ মিলেছে। এলাকাবাসী আমাদের পুলিশ বাহিনীকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। এজন্য এ অভিযান সফল হয়েছে। তিনি বলেন, একপর্যায়ে জঙ্গিরা গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা করছিল। ফায়ার সার্ভিসও যথাসময়ে এসে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সব সময় বলে আসছি আমরা শতভাগ নির্মূল করতে পারিনি। ২/৪ জন হয়তো এদিক সেদিক রয়ে গেছে। যারা এদিক সেদিক ছিল তারাও কিন্তু সঙ্গবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টা করছিল এই আকাশের নেতৃত্বে। এটা আমাদের ধারণা ছিল। আজকে আরো কয়েকটি সফল অভিযান হয়েছে। গাজীপুরে আরেকটা অভিযানে দুজন এবং টাঙ্গাইলে আরো দুজন এ রকমভাবেই নিহত হয়েছে।ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) জাবেদ পাটোয়ারি, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমান, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।আমিনুল ইসলাম/এমএএস/আরআইপি