নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নে ফতেপুর বাজারের পাশে অবস্থিত ফকিন্নি নদী। নদীর দু’পাড়ের তিন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। একটি ব্রিজের অভাবে দু’পাড়ের মানুষ বর্ষায় নৌকা এবং খরা মৌসুমে বাঁশের তৈরি সাঁকোর উপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। তাই এই দুর্ভোগ লাঘবে নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।মান্দা ও আত্রাই উপজেলা এবং রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলাসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের ভরসা একটি মাত্র বাঁশের সাঁকো। এ সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। একটি এলাকার উন্নয়নে প্রধান শর্ত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা যতো উন্নত সে এলাকা ততো উন্নত। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এই ব্রিজটি নির্মাণ হয়নি।স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ জরুরি কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে এবং সাধারণ মানুষকে বর্ষায় নৌকা ও খরা মৌসুমে বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। একটি ব্রিজের অভাবে এলাকার কৃষকেরাও তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।উপজেলার ফতেপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নদীর উপর একটি ব্রিজ একান্ত প্রয়োজন। ব্রিজ না থাকায় আমাদের দীর্ঘদিন থেকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ বার সয়েল টেস্ট করে নিয়ে গেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফতেপুর বাজার থেকে মিঠাপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।বাগামারা থানার জামালপুর গ্রামের আজাদুল ও তফেজ উদ্দিন বলেন, বাড়ি রাজশাহী জেলার মধ্যে হলে আমাদের সবসময় নওগাঁ জেলার মধ্যে চলাচল করতে হয়। কারণ বাড়ির পাশে নদী পার হয়ে ফতেপুর বাজারে আসতে হয়। এছাড়া জমিজমা ও কাজকর্ম- সবই মান্দা থানার মধ্যে।বিষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এলাকাবাসীর স্বার্থে ওই স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। ব্রিজ নির্মাণ হলে এলাকার পিছিয়েপড়া মানুষগুলোর উন্নয়ন হবে। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই হয়তো কার্যক্রম শুরু হবে।মান্দা উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ওই নদীর উপর একটা ব্রিজ নির্মাণ হবে। এ নিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। প্রক্রিয়াধীন হওয়ার মধ্যে চলে আসছে। ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট করে হেড অফিসে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট দেখে ইস্টিমেট করে কাজ শুরু হবে। আব্বাস আলী/এফএ/এনএইচ/এমএস