কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড় শালঘর ইউএমএ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু্ই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে দুপুর পর্যন্ত। সংঘর্ষে অনন্ত ১০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ঝাড়ু এবং আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুছ মিয়া মাস্টারের গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট রেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার বড়শালঘর ইউএমএ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন ছিল শনিবার। নির্বাচনে ৫টি পদের বিপরীতে স্থানীয় চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ও কামাল চৌধুরী এবং ইউনুছ মাস্টার ও আউয়াল সমর্থিত দুইটি প্যানেল অংশে নেয়। সকাল থেকে ভোট কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ও ইউনুছ মাস্টার গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামের সমর্থকরা বিদ্যালয়ের পাশের সৈয়দপুর বাজারে ইউনুছ মাস্টার গ্রুপের এক সমর্থকের ওপর হামলা, দুইটি দোকান ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া শুরু হয়।সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুছ মাস্টার গ্রুপের মান্নান, সাব্বির হোসেন, এনামুল, আ. মতিন ও সিরাজুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার উল হালিম, দেবিদ্বার-বিপাড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিম ও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায়।এ বিষয়ে জহিরুল ইসলাম জারু চেয়ারম্যানের সমর্থকরা জানান, ইউনুছ মাস্টারের সমর্থকরা জারু চেয়ারম্যানের দুই সমর্থক হাজী মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মুনসুরুল ইসলামের বাড়ি ও দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন জানান, সংঘর্ষের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শক্রমে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। সন্ধ্যায় দেবিদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কামাল উদ্দিন/এআরএ/আরআইপি