সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীর বিমলের চরে ডুবে যাওয়া সারবাহী লাইটারেজ জাহাজ এম ভি `জাবালে নূর` উদ্ধারের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই জাহাজের অভ্যন্তরে থাকা গতিল পটাশ সার অন্যত্র সরানোর কাজ শেষ হয়নি। জোয়ারের সময় অতিমাত্রায় স্রোতের কারণ আর ভাটির সময় পানি কম থাকার অজুহাত হিসেবে কালক্ষেপণ চলছে। আর এ সুযোগে জাবালে নূর কার্গো জাহাজের মালামাল স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল কৌশলে চুরির কাজে নেমে পড়েছে বলে জানা গেছে।দিন যতই বাড়ছে উদ্ধার কাজের তৎপরতা কমিয়ে আনছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে দুর্ঘটনায় পতিত লাইটারেজ জাহাজ জাবালে নূরে থাকা অভ্যন্তরীণ জালানি তেল ও বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুটের আশঙ্কার কথা সংবাদকর্মীরা শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ অতুল মণ্ডলের কাছে প্রকাশ করার সময় ইউএনওর কক্ষে থাকা শরণখোলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ ক্ষিপ্ত হয়ে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন।তবে এ দুর্ঘটনার পর বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য বিআইডব্লিউটিএ`র ঢাকা অঞ্চলের ডেপুটি ডাইরেক্টর মো. ফজলুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ইতোমধ্যে জাহাজের ৫০ ভাগ সার বিভিন্নভাবে সরে গেছে এবং জাহাজে থাকা অভ্যন্তরীণ জালানি তেল ও বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল বেহাত হয়ে গেছে।এর আগে শুক্রবার সারবাহী জাহাজ ডুবির ঘটনায় গঠিত বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ড. সুনীল কুমার কুণ্ডসহ ৭ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কিছু আলামত সংগ্রহ করেন।উল্লেখ্য, দুর্ঘটনা কবলিত লাইটারেজ জাহাজটি মংলা বন্দরের অদূরে পশুর নদীর হারবারিয়া এলাকা থেকে ৬শ` ৭০ মেট্রিকটন পটাশ সার বোঝাই করে গত পহেলা মে আশুগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীর বিমলের চরে আটকা পড়ে ৪ মে সোমবার সন্ধ্যায় চরে আটকা পড়ে। মঙ্গলবার বিকেলে জাহাজটির তলা ফেটে পটাশ সার সুন্দরবনের ভোলা নদীতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে কর্গোটি কাত হয়ে ডুবে যায়।শওকত আলী বাবু/এমজেড/আরআই