বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রাম থেকে বাঘের মাথার খুলি ও হাড়গোড়সহ এক চিহ্নিত চোরা শিকারিকে আটক করেছে বনবিভাগ। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে সুন্দরবনের কাছেই শরণখোলা উপজেলার সাউথখালি ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের সগির ঘরামির (৪৫) বাড়ি থেকে এ বাঘের খুলি ও হাড় উদ্ধার করা হয়। আটক সগির ঘরামি সোনাতলা গ্রামের মৃত ইউসুফ ঘরামির ছেলে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আটক সগির দীর্ঘ দিন ধরে বন্যপ্রাণি শিকার ও পাচারের সঙ্গে জড়িত। এর আগে গত ৩ মার্চ পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোড়লগঞ্জ এলাকা থেকে ১টি গন্ধ গোকুল ও ৪টি হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছিল। তার দু`মাস আগে জানুয়ারি মাসে র্যাব-৮ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শরণখোলা বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে ১টি বাগেরহাট চামড়সহ আন্তর্জাতিক চোরাকারবারী নুরুজ্জামানসহ ৪ জনকে আটক করেছিল। মঙ্গলবার সকালে বাঘের মাথার খুলি ও হাড়সহ আটক সগির চোরাকারবারী দলের সক্রিয় সদস্য ও নুরুজ্জামানের ভাই।সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) কামাল উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগের একটি দল সোনাতলা গ্রামের সগির ঘরামির বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় তার বাড়ি থেকে সুন্দরবন থেকে শিকার করা ১টি বাঘের মাথার খুলি, ছোট-বড় ১৫৭ পিস হাড়-গোড় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে সেখান থেকে বাঘ ও হরিণ শিকারে ফাঁদ হিসাবে ব্যবহৃত ১০ কেজি জালও উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে বন্য প্রাণি আইনে থানায় মামলা করা হবে।সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো.আমীর হোসাইন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আটক সগির ঘরামি সরাসরি সুন্দরবন থেকে বাঘসহ বন্যপ্রাণি শিকার ও পাচারের সঙ্গে জড়িত। গত জানুয়ারি মাসে র্যাব-৮ গোপনসংবাদের ভিত্তিতে শরনখোলা বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে ১টি বাগেরহাট চামড় সহ আর্ন্তজাতিক চোরা কারবারী নুরুজ্জামানসহ ৪ জনকে আটক করা করেছিল। মঙ্গলবার সকালে বাঘের মাথার খুলি ও হাড়সহ আটক সগির চোরাকারবারী দলের সক্রিয় সদস্য ও নুরুজ্জামানের ভাই। ধারণা করা হচ্ছে ইতোপূর্বে র্যাব যে বাঘের চামড়া আটক করেছিল এটি তার অবশিষ্ট বাঘের মাথার খুলি ও হাড়।ডিএফও আরো বলেন, সগিরের বিরুদ্ধে শিকার ও পাচারের অভিযোগে এর আগেও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে মামলা রয়েছে। তিনি বন বিভাগের তালিকাভুক্ত শিকারি ও পাচারকারী। দীর্ঘদিন ধরে তাকে আটকের চেষ্টা চলছিল বলেও জানান তিনি। শওকত আলী বাবু/এমজেড/এমএস