বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন খানজাহান আলী বিমান বন্দরের জন্য নির্ধারিত রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকা পরিদর্শন করতে মঙ্গলবার বাগেরহাট যাচ্ছেন। এদিন বিকালে বাগেরহাট সার্কিট হাউজে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মন্ত্রীর মত বিনিময়ের কথা রয়েছে।বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালে বাগেরহাট সফরকালে খানজাহান বিমান বন্দর নির্মাণের কাজ আবারো শুরু করার যে প্রতিশ্রুতি দিযেছিলেন বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি এখন বাস্তবায়ন হতে চলেছে। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পটি একনেকে পাশ হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুশির জোয়ার বইছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে হচ্ছে আনন্দ মিছিল।প্রধানমন্ত্রী ওই প্রতিশ্রুতির পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ(বেবিচক) এখন এই বিমান বন্দরটি নির্মাণে ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করবে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে ৮০ ভাগ টাকা ও বেবিচক দিচ্ছে ২০ ভাগ টাকা। খানজাহান বিমান বন্দর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে আরও ১৫০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। দু’বছরের মধ্যে এই বিমান বন্দরটি নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এই বিমান বন্দরটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সুন্দরবনের ইকো ট্যুরিজম, হযরত খানজাহানের মাজার ও ষাট গুম্বজ মসজিদের পর্যটন শিল্পের দ্রুত বিকাশ ও দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা আরও গতিশীলসহ নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর পাশাপাশি অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।পরিকল্পপনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রায় ৫৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খানজাহান আলী বিমান বন্দর প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উস্থাপন করলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তা পাশ হয়। দক্ষিনণাঞ্চলের সাথে যোগাযোগের গুরুত্ব অনুধাবন করে আগামী দু’বছরের মধ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ হবে। আর সে লক্ষ্যেই খুব শিগগিরই এই বিমান বন্দরটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানান।এ বিমান বন্দরের কারণে পাল্টে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র। একদিকে বাগেরহাটের হযরত খানজাহানের মাজার, ষাটগুম্বজ মসজিদ ও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সুন্দরবনের ইকো টুরিজমসহ পর্যটন শিল্পের দ্রুত উন্নতি লাভ করবে। অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়ি শিল্পের বিকাশে এ বিমান বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা আরও গতিশীল হবে। প্রস্তাবিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন ও নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর পাশাপাশি অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।শওকত আলী বাবু/এসএস/আরআই