জয়পুরহাটে শনিবার গভীর রাতে প্রচণ্ড ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে দেয়াল চাপা পড়ে ১জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে আরো ১০জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম জাহিদুল। সে একজন হোটেল শ্রমিক। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। রাতেই তার মরদেহ নিজ বাড়ি গাইবান্ধায় নিয়ে গেছে স্বজনরা। এদিকে ঝড়ের পর বন্ধ হওয়া রেল যোগাযোগ সকাল ৮ টা থেকে আবার চালু হয়েছে। কিন্ত পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হতে ২-৩ দিন সময় লাগবে বলে বিদ্যুৎ অফিস সূত্র জানা গেছে। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে দোকানপাট ও ঘর-বাড়ির টিন দুমড়ে-মুচড়ে উড়ে যায়। বড়-বড় গাছ ও ডাল ভেঙে বাড়ি-ঘরের উপর পড়লে টিন নষ্ট হয়। একইভাবে রাস্তার, বাগানের ফলজ ও বনজ গাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ায় কয়েক কোটি টাকার ফলজ ও বনজ সম্পদের ক্ষতি হয়। শতাধিক বৈদ্যুতিক খুুঁটি উপড়ে জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এদিকে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির সময় অন্তত ৫ শতাধিক কাঁচা ও পাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে চলতি মৌসুমে জেলার বিস্তৃর্ণ এলাকার মাঠের পাকা বোরো ধান, পাটসহ অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।জয়পুরহাট বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল হাসান বলেন, বিভিন্ন জায়গায় গাছ ও ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে এবং বিদ্যুতের পুল পড়ে যাওয়ায় সকাল থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। জয়পুরহাট স্টেশন মাস্টার নূরুল ইসলাম জানান, রেললাইনের উপর বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা গাছের ডাল ও গাছ সকালে সরানোর পর রাতের ঢাকাগামী একতা ও নীলসাগর এক্সপ্রেস বিলম্বে সকালে ছাড়ে। জেলা প্রশাসক আব্দুর রহিম জানান, শনিবারের ঘূণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যেই ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে মাঠে কাজ শুরু করেছেন।এসএস/পিআর