দেশজুড়ে

স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে কিটনাশক স্প্রে করছেন জয়পুরহাটের কৃষকরা

জয়পুরহাটের কৃষকদের অধিকাংশই বাপ-দাদার আমল থেকে এখনো সেই সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন অনেকটা অজান্তেই। সেই ধারাবাহিকতায় ফসলি জমিতে কিটনাশক ছিটানো একটি মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ বিষয় হলেও তাও চলছে খামখেয়ালীভাবে। এ ব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করতে জেলা কৃষি বিভাগের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ কৃষকদের। জানা গেছে, জয়পুরহাটের কৃষকরা ফসলি জমিতে কিটনাশক ছিটানোর মত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছেন কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াই। স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি কি জিনিস তাও জানেন না এখানকার কৃষকরা। তাই সেই বাপ-দাদার যুগ থেকে যেভাবে শিখে আসছেন সেভাবেই কৃষকরা ফসলি জমিতে কিটনাশক স্প্রে করছেন হরহামেশাই। জেলার কালাই উপজেলার মোলামগাড়ীহাটের কৃষক আব্দুল মজিদ, কাদিরপুর গ্রামের অজিমুদ্দিনসহ অন্যান্য কৃষকরা জানান, মুখে মাস্ক, হাতে গ্লভস ও গায়ে জামা পরে যে কিটনাশক স্প্রে করতে হয় তা তাদের জানা নেই। তাই খোলা গায়ে, মুখে মাস্ক  ও হাতে গ্লভস না পরেই তারা কিটনাশক ঔষধ স্প্রে করে থাকেন।ধান ক্ষেত, শাক-সবজির মাঠ কিংবা ফল-মূলের বাগান, সর্বত্রই কৃষকদের দেখা গেছে তারা কিটনাশক ঔষধ স্প্রে করছেন মুখে মাস্ক, হাতে গ্লভস ও গায়ে জামাকাপড় না পরেই। এটা যে স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক তাও জানা নেই তাদের। আর এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের সহযোগিতাও নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে কৃষকদের। জয়পুরহাট সদর উপজেলার পালী গ্রামের কার্ত্তিক চন্দ্র সিং, রতন কুমার, তেঘর গ্রামের নান্টু মিয়াসহ অন্যান্য কৃষকদের অভিযোগ, এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তারা তাদের কোনো পরামর্শই দেন না। শরীরে জামাকাপড়, হাতে গ্লভস ও মুখে মাস্ক ব্যবহার না করে কিটনাশক ছিটানোর ফলে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী কুফল ব্যাখ্যা করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক (মেডিসিন) ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, মুখে মাস্ক না পরে বা শরীর না ঢেকে কোনোভাবেই কিটনাশক স্প্রে করা উচিত নয়। এতে করে কিটনাশকের বিষক্রিয়া লোমকূপ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং নিঃশ্বাসের সাথে শ্বাসনালী আক্রান্ত হতে পারে। আর এতে বমি, মাথা ধরা, শ্বাসতন্ত্রে যন্ত্রণা হতে পারে যা মৃত্যুর কারণও ঘটাতে পারে।তবে সীমিত আকারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্বীকার করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এজেডএম ছাব্বির ইবনে জাহান জানান, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে অধিক সংখ্যক কৃষককে সাস্থ্য সচেতন করা সম্ভব হচ্ছে না।এসএস/এমএস