জয়পুরহাট চিনিকলের গুদামে এখনো অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা মূল্যের চিনি। ২০১১-১২ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ৪ মৌসুমের প্রায় ৯৫৯৬ মেট্রিক টন চিনি মজুদ আছে। এছাড়া ২০১২-১৩ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রায় ৬ কোটি টাকার ও ২ মৌসুমের প্রায় ৫ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন চিটাগুড় অলসভাবে পড়ে আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪২ কোটি টাকার চিনি ও চিটাগুড় বিক্রি না হওয়ায় গেল ৩ মাসের বেতন-ভাতা পাননি মিলের প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারি। দেশীয় চিনিকলকে বারবার লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে আমদানি করা চিনির ওপর কর বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারিরা। বিপুল পরিমাণ চিনি বিক্রি না হলে মারাত্মক ধকল পোহাতে হবে চিনিকলটিকে। ১শ টাকা উৎপাদন খরচে ৩৭ টাকা দরেও চিনি বিক্রি করতে পারছে না মিল কর্তৃপক্ষ। বেশি মূল্যের পাশাপাশি আমদানি করা চিনি অপেক্ষা জয়পুরহাট চিনিকলের চিনির রং লালচে হওয়ায় বাজারে বিক্রি হচ্ছে না। ফলে মান ভাল হলেও জয়পুরহাট চিনিকলের চিনি কিনছেন না স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। চাহিদা না থাকায় মিলটির গুদামে পড়ে আছে গত ৪ বছরের ৯৫৯৬ মেট্রিক টন চিনি পরিস্থিতি এমন থাকলে অচিরেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশীয় এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরে এসব চিনি গুদামজাত থাকায় এর মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চিনি বিক্রি না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দুষলেন চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়নের স্থানীয় অনেক নেতা। বর্তমানে চিনি প্যাকেটিং করে বাজারজাত করার চিন্তাভাবনা করছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ এতে মজুদ অনেকটা কমিয়ে আসবে বলে মনে করেন তারা। ১ লাখ ১০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১৯৬২ সালে প্রায় ১০০ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হয় জয়পুরহাট সুগার মিল। নির্মিত বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার আওতাধীন জয়পুরহাট সুগার মিলটি চালু হয় ১৯৬৩ সালে। এরপর থেকে মিলটি ভালই চলছিল কিন্ত ১৯৯০ সালের পর থেকে মিলটি আর লাভের মুখ দেখেনি। অন্যদিকে, চাষিরা অন্যান্য ফসল লাভজনক হওয়ায় আখ চাষ না করায় দিন দিন এর উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এরই ফলশ্রুতিতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রয়োজনীয় আখ না পাওয়ায় এ মিলে উৎপাদিত হয় মাত্র সাড়ে ৮১ হাজার মেট্রিকটন চিনি। জয়পুরহাট চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আফজাল হোসেন তালুকদার চিনি বিক্রি না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, কম দামের বিদেশি চিনি আমদানির কারণে দেশে উৎপাদিত চিনি উন্নতমানের হলেও তা বারবার মার খাচ্ছে স্থানীয় বাজারে। তাই একই কারণে জয়পুরহাটসহ দেশে উৎপাদিত চিনি বিক্রি হচ্ছে না বলে সেগুলো থেকেই যাচ্ছে অবিক্রিত অবস্থায়।জয়পুরহাট চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে জানান, ৪টি আখ মাড়াই মৌসুমের বিপুল পরিমাণ চিনি ও ২ আখ মাড়াই মৌসুমের চিটাগুড় মজুদ আছে এই চিনিকলের গুদামে। এ পর্যন্ত বিক্রির পর অবশিষ্ট রয়েছে চিটাগুড়সহ মোট প্রায় ৪২ কোটি টাকার চিনি ও চিটাগুড়। এই বিপুল পরিমাণ চিনি বিক্রি করা না গেলে চিনিকলে কর্মরত প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক-কর্মচারি ও কর্মকর্তাদের বেতন পাওয়া যাবে না। জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও ঠিক কী কারণে চিনি বিক্রি হচ্ছে না সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।এমজেড/আরআইপি