পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে প্রায় দুই মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার ১ ও ৭ নং ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
জলাবদ্ধতায় নাকাল দক্ষিণ কাগজীপাড়া গ্রামের দেওয়ান বাড়ি, চৌধূরী বাড়ি, হাওলাদার বাড়ি এবং বাঁশবাগান বাড়ি যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি। শুধু সড়ক নয়, পানি এখন ঘরের দরজায় পৌঁছে গেছে। আরেকটু বৃষ্টি হলেই ঘরে ঢুকবে। প্রায় সাত শতাধিক মানুষ এই জলাবদ্ধতায় ভুগছে। পৌরসভার মধ্যে হয়েও এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পৌর কর্মকর্তারা অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।
স্থানীয়রা এই পর্যন্ত দুই দফায় নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ করে সড়কটিতে বালুর বস্তা ফেলে চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। তবে টানা বর্ষণে পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাটি অনেক জায়গায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যার ফলে দুর্ভোগের মাত্রা দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে।
অষ্টম শ্রেণির ছাত্র জাহিদ চৌধুরী জানায়, কয়েক মাস পর তার ফাইনাল পরীক্ষা। ভালো রেজাল্ট করে নাইনে উঠতে পারলে পছন্দের গ্রুপ নিয়ে লেখাপড়া করতে পারবো, এজন্য পানিতে ভিজে প্রতিদিন স্কুলে যাই। প্রাইভেট পড়াসহ বাড়ির বিভিন্ন কাজে কয়েকবার বের হতে হয়। এতে ঠান্ডা-জরে ভুগতে হয়েছে বেশ কিছুদিন।
স্থানীয় বাসিন্দা সত্তরোর্ধ নুরু চৌধূরী বলেন, অনেকের কাছে ধন্যা দিছি কোনো কাজ হয়নাই। একটা ড্রেনের ব্যবস্থা অথবা প্রাথমিকভাবে পাইপ দিয়ে রাস্তা থেকে পানি সড়ানো যায়। কিন্তু কে এই ব্যবস্থা করবো? কোমর পর্যন্ত পানি পার হইয়া প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে যাই।
এছাড়া ভোক্তভোগি আরো অনেকেই জানান, প্রতিনিয়তই পৌরসভার ট্যাক্স দিচ্ছেন কিন্তু বিনিময়ে কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। আরো কয়েক দিন বৃষ্টি হলে বাড়ির আঙিনাসহ ঘর-বাড়ি ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় ভুগছেন তারা।
এ বিষয়ে ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল জলির মাদবর বলেন, গেল নির্বাচনে বর্তমান মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বির সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিলাম বলে আমার ওয়ার্ডে সে কোনো কাজ দেয়নি। পৌরসভা থেকে কোনো বরাদ্দ না থাকায় নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাহায্যের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর শাহিনা ইসলাম বলেন, মাস খানেক আগেই মেয়র সাহেবকে বিষয়টা জানিয়েছি, দেখা যাক কী হয়।
সমস্যা সমাধানে মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যে এই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
তিনি আরো বলেন, জরুরি ভিত্তিতি সাময়িকভাবে পানি সরানোর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে যাচ্ছি, তবে ভবিষ্যতে স্থায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।
ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এফএ/আইআই