কয়েকদিনের টানা বর্ষণে কুষ্টিয়া জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের প্রায় ৮৬ কিলোমিটার বিধ্বস্ত হয়েছে। হাজারও খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ তিন মহাসড়ক।
ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এসব মহাসড়কে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচলে বাধ্য হচ্ছে। সড়ক বিভাগের হিসাব মতে, তিন সড়কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
এ অবস্থায় ঈদের আগেই গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি মহাসড়ক যান চলাচলের উপযোগী করে তুলতে মাঠে নেমেছে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
অন্যসব বাদ দিয়ে রাত-দিন সমান তালে চলছে সড়ক মেরামত কাজ। কুষ্টিয়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম নিজেই সরেজমিনে এ কাজের তদারকি করছেন।
সওজ সূত্রে জানা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ৪৩ কিলোমিটারের অধিকাংশ, কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ২৩ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের ২৮ কিলোমিটারের অধিকাংশই বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই তিনটি মহাসড়ক মেরামতের জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন।
কুষ্টিয়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক বর্তমানে যে অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তাতে এভাবে মেরামত করে কোনো লাভ হবে না। দীর্ঘস্থায়ী সুফল পেতে হলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক আংশিক মজবুতীকরণসহ মেরামতের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে দুই দফা মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ৩২ জেলায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগের একমাত্র পথ কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়ক। সড়ক বিভাগের হিসাব মতে, এই মহাসড়কে প্রতিদিন ১১ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করে। এ কারণে এ মহাসড়ক দুই বঙ্গের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সরেজমিনে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ এবং কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের কুষ্টিয়া অংশ ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রাস্তার বুকজুড়ে বড় বড় গর্ত-খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে কুষ্টিয়া শহরের বারখাদা ত্রিমহোনী থেকে শুরু করে ভেড়ামারা ১২ মাইল পর্যন্ত এবং শহরের মজমপুর গেট থেকে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক।
এসব এলাকায় সড়কের প্রায় বেশিরভাগ কার্পেটিং উঠে সৃষ্ট গর্তে বৃষ্টির পানি জমায় যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে প্রাণহানি।
এ অবস্থায় ঈদের আগেই গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি মহাসড়ক মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করে তুলতে মাঠে নেমেছেন কুষ্টিয়া সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বড় গর্তগুলো ইট বালু ফেলে আর ছোট গর্তগুলো বিটুমিন দিয়ে মেরামত চলছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চৌড়হাস এলাকায় সড়ক মেরামত কাজ চলার সময় কথা হয় নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে।
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই মেরামত কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ৪৩ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার মেরামত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কেও মেরামত কাজ অব্যাহত রয়েছে। দিন রাত সমানে মেরামত কাজ চলছে। তবে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ার কারণে মেরামত কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। ঈদের আগেই এই তিনটি মহাসড়ক মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আল-মামুন সাগর/এএম/আইআই