কুষ্টিয়ার মিরপুরে ধর্ম মামার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ এনে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে গ্রাম্য সালিশে গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনার মূল নায়ক ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বকুলকে অবশেষে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
শনিবার রাতে নির্যাতিতা ওই গৃহবধূর শাশুড়ি রুপজান নেছা বাদী হয়ে ওই ইউপি সদস্যসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ভাঙচুর, লুটপাট, শ্লীলতহানী, নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর শনিবার গভীর রাতে মিরপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বারুইপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মোজাম্মেল হক বকুলকে গ্রেফতার করে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন- একই গ্রামের মিন্টু, আশতাকুল ইসলাম কালু, মিজারুল এবং নির্যাতিতা ওই গৃহবধূর ননদের স্বামী মাহাবুল।
ওই গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামের রিপন আলীর স্ত্রী সালমা খাতুনের সঙ্গে ধর্ম মামা ছাতিয়ান ইউনিয়নের সাপকামড়া গ্রামের সুবলের অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে গত সোমবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় স্থানীয় জনগণ তাদের দুজনকে ধরে নিয়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে গভীর রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বকুলের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে ওই গৃহবধূ ও ধর্ম মামাকে বেধড়ক মারপিট ও ধর্ম মামার ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকাশ্যে গ্রামবাসীর সামনে ওই গৃহবধূ ও ধর্ম মামাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে সালিশে ধার্য হওয়া ২০ হাজার টাকা দিতে না পারায় তার ব্যবহৃত মটরসাইকেলটি সালিশের প্রধান ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বকুল তার জিম্মায় রেখে দেন। নির্যাতনের কারণে ওই গৃহবধূ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লেও সালিশকারীরা তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে বাধ সাধে। তারা নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে নিজ বাড়ীতে অবরুদ্ধ করে রাখে।
ঘটনার চার দিন পর সংবাদ পেয়ে শুক্রবার দুপুরে মিরপুর থানা পুলিশ নির্যাতিতা অসুস্থ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। নির্যাতিতা ওই গৃহবধূকে চার দিন পর পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়াসহ দেশব্যাপী চ্যাঞ্চলের সৃষ্টি হয়।
কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি নিজে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ ও তার পরিবারের সদস্যরা মামলা পরবর্তী হয়রানির আশংকায় এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করতে আগ্রহী না হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তাসহ সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শনিবার মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অপর চার আসামিকেও গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে বলে ওসি জানান।
আল-মামুন সাগর/এফএ/জেআইএম