কুষ্টিয়ার পাইকারি বাজার বা মোকামে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সভা ডেকে ব্যবসায়ীদের ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া এই সময় সীমা শেষ হয়েছে। তারপরও জেলা প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মিলাররা চালের দাম কোমানোর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত বুধবার বিকেল ৪টায় চালের মূল্যবৃদ্ধি ও এর সমাধান নিয়ে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুষ্টিয়ার শীর্ষ কয়েকজন মিল মালিক, চাল ব্যবসায়ী ও চেম্বার নেতা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান মিলারদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আনার জন্য সময় বেঁধে দেন।
জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, খাজানগর এলাকায় চালের সবচেয়ে বড় মোকাম রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের মালিক আবদুর রশিদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে চালের দাম কমানোর ব্যাপারে ঈদের পর আবার আলোচনা হবে।
রবিউল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত খাজানগর এলাকার চালের মোকামে চালের দাম কমেনি। আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে।
এই কর্মকর্তা জেলা প্রশাসনের বুধবারের সভায় জানিয়েছিলেন বর্তমানে মিনিকেট ধানের দাম প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা।
চাল কলের মালিকরা চাল উৎপাদনের জন্য বেশ কয়েক মাস আগে ধান কিনে গুদামে মজুদ করে রাখেন। এই দামে ধান কিনলে চালের কেজি প্রতি দর ৪৭ থেকে ৪৮ টাকার মধ্যে থাকার কথা।
হঠাৎ করে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজি প্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। একই মানের ধান দিয়ে অনেকে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫১ টাকায় বিক্রি করে। রশিদ অ্যাগ্রো বিক্রি করে ৫৪ টাকায়। দামে এত ফারাক হতে পারে না।
স্থানীয় চেম্বারের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা হাজী রবিউল ইসলাম সভায় বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য অনেক মিল মালিক এ কাজ করছেন।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাবিবুর রহমান বলেন, খাদ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসককে ফোন করেছিলেন। শুক্রবার পর্যন্ত চালের দাম কমানো হয় কিনা তা দেখতে বলেছেন। তা না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হঠাৎ করে দাম বাড়িয়ে চালের বাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অভিযোগ এনে বুধবার সভা ডেকে চালকল মালিকদের এক হাত নেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান।
সেই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে (বৃহস্পতিবার) চালের দাম কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য মিল মালিকদের নির্দেশ দেন তিনি।
ওই সময় জেলা প্রশাসক বলেন, আপনাদের কোনো কথা শোনা হবে না। সব তথ্য আমার কাছে আছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে যেন শুনি চালের দাম কমে গেছে।
আল-মামুন সাগর/পিআর