বাগেরহাটের ভোলা বলেশ্বরসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ-নদীতে চলছে চিংড়ি পোনা আহরণের মহোৎসব। পোনা আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ আইনের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ হলেও তা মানছে না কেউ। বন বিভাগ, উপজেলা মৎস্য বিভাগসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাত করে শরনখোলা উপজেলার প্রায় ৫০টি মৎস্য আড়তের মহাজনরা চালাচ্ছে অবৈধ চিংড়ি পোনার রমরমা ব্যবসা। শরণখোলা উপজেলার প্রভাবশালী এ সকল ব্যক্তিরা সুন্দরবন সংলগ্ন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে কোটি কোটি টাকার (অগ্রিম প্রদান) দাদন ছড়িয়ে দিয়ে এক প্রকার মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে প্রতিবছর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে চিংড়ি পোনা আহরণ করার সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা কোটি কোটি টাকার অন্যান্য প্রজাতির (সাদা সোনা) পোনা ধ্বংস করে ফেলছে। সুন্দরবন সংলগ্ন ১৫১.২৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শরণখোলা উপজেলার চার ইউনিয়নে বসবাসরত প্রায় দেড় লাখ মানুষের একটি বিরাট অংশ দরিদ্রতার কারণে নদী খালে মাছ ধরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। দরিদ্র এ শ্রেণির মানুষকে প্রধান টার্গেট করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রতি বছর পোনা আহরণ মৌসুমের শুরুতে কোটি কোটি টাকা (অগ্রিম প্রদান) দাদন দেয়। পোনা আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ আইনের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ হলেও সুবিধাভোগী এ শ্রেণির মাহাজনরা তা মানে না ।প্রতিবছর জুন-জুলাই মাসে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন নদী খালে চিংড়ি পোনা আহরণ করার সময়ে নির্বিচারে মেরে ফেলে অন্য মাছের পোনা। প্রশাসনিক কার্যক্রম তেমন জোরদার না হওয়ায় এ বছরও মৌসুমের শুরুতেই চিংড়ির পোনা আহরণে উপকূলের নদী খালে নেমে পড়েছে মৎস্য শিকারীরা। শরণখোলা উপজেলার জেলে সমিতির সভাপতি মো. দুলাল ফরাজী বলেন, প্রসাশন তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার জেলে সম্প্রদায়ের মাঝে সভা করে তাদের সচেতন করা হলে অন্যান্য প্রজাতির পোনা বিনষ্ট কিছুটা কমতে পারে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কামাল আহম্মেদ জানান, সুন্দরবনের নদ-নদীতে কেউ পোনা ধরেনা। তবে বলেশ্বর নদীতে কিছু গরীব মানুষ পোনা ধরে পেট চালাচ্ছে তাই তাদের খুব একটা চাপ দেওয়া হচ্ছেনা। তবে বন কর্মকর্তাদের টাকা পয়সা দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হয় এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খন্দকার মো. শহিদুর রহমান বলেন, কারো মাছ আহরণে ব্যাঘাত ঘটলে অনেকেই অভিযোগ করে। কিন্তু এসব অভিযোগের কোনো বাস্তবতা নেই। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, পোনা নিধন ঠেকাতে কারো কোনো সহায়তা পাওয়া যায় না। স্থানীয় জন-প্রতিনিধিদের সাহায্য চাইলে তারা কৌশলে এড়িয়ে যান। কারণ সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তাই কেউ ভোটের ব্যাঘাত ঘটাতে চান না। তিনি আরো বলেন, অবৈধ শিকারীদের দৌরাত্ত্ব কমাতে গত ছয় মাসে উপজেলা মৎস্য বিভাগ প্রায় কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দিয়েছে। তার পরেও পোনা আহরণকারীরা থেমে নেই। তারা পোনা নিধন করে চলছেই। এদেরকে ঠেকাতে হলে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।বাগেরহাট/এআরএ/এমএস