নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামীর পরকীয়া প্রেম ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় ফাতেমা আক্তার মনি (১৮) নামে এ নববধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার দুপুরে ফতুল্লার উত্তর গোপালনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই নববধূর মরদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
তবে নিহত ফাতেমা আক্তার মনির পরিবারের অভিযোগ, স্বামীসহ শশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতনের পর মনিকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে। মনি মারা যাওয়ার পর থেকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।
নিহত ফাতেমা আক্তার মনি উত্তর গোপালনগর এলাকার আশিক হোসেন চাঁনের স্ত্রী ও বক্তাবলীর মধ্যনগর এলাকার হোসেন আলীর মেয়ে।
নিহতের বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম জানান, ফাতেমা আক্তার মনিকে চলতি বছরের ৫ মে বক্তাবলীর উত্তর গোপালনগর এলাকার আওলাদ হোসেনের ছেলে আশিক হোসেন চাঁনের সঙ্গে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর জানা যায় ছোট বোনের স্বামী একজন নেশাগ্রস্ত ও পরকীয়া প্রেমে আসক্ত। যার কারণে প্রায় সময় মনিকে তার স্বামী শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এমনকি মনির স্বামী আশিক প্রায়ই বাইরে রাত্রি যাপন করত। এ বিষয়গুলো মনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানালে তারা আরও ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে।
শুক্রবার সকালে মনি তার শ্বশুরবাড়ির ২য় তলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে মনির স্বামী ফোন করে জানায়। পরে মনির শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। মনিকে হত্যা করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন্ তিনি।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরে ফাতেমা আক্তার মনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের পরিবার হত্যার অভিযোগ করলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের অভিযোগ আমলে নেয়া যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
শাহাদাত হোসেন/আরএআর/পিআর