আর মাত্র তিনদিন পর ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী বাছাইয়ে ভোটারদের মধ্য চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিয়েও ভাবছেন অনেকে। সবারই চাওয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হোক। সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত থাকুক কেন্দ্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, জেলার প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ময়মনসিংহের ১ হাজার ৩৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৮৩টিই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপরীতে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে ৭৮২টি। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৪৩ শতাংশ কেন্দ্রেই বিশেষ নজরদারি ও বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন।
জানা যায়, এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দ্বায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমনেও হুঁশিয়ারির কথাও জানানো হয়েছে। ভোটারদেরও প্রত্যাশা, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত প্রার্থী সংসদে যাক। মানুষের প্রত্যাশা পূরণসহ উন্নয়ন করুক সংসদীয় আসনের।
জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ত্রিশাল ও ভালুকায়। উভয় উপজেলায় ৭২টি করে কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সদরে ৬৫টি এবং পাগলা থানায় ৫৮টি কেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অন্য উপজেলার মধ্যে ফুলবাড়িয়ায় ৫০টি, ঈশ্বরগঞ্জে ৪৭টি, নান্দাইলে ৪৩টি এবং গৌরীপুরে ৪২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হালুয়াঘাটের ২০টি, ধোবাউড়ায় ২৫টি, ফুলপুরে ১৯টি, তারাকান্দায় ২৯টি, মুক্তাগাছায় ১৯টি এবং গফরগাঁওয়ে ২২টি কেন্দ্র।
ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন। এরকম পুরুষ ভোটার রয়েছে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯২ জন, নারী ভোটার রয়েছে ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬ জন ও হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৪১ জন। ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট- ধোবাউড়া) আসনে ৭ জন, ময়মনসিংহ- ২ (ফুলপুর- তারাকান্দা) আসনে ৭ জন, ময়মনসিংহ- ৩ (গৌরীপুর) আসবে ৫ জন, ময়মনসিংহ- ৪ (সদর) আসনে ৯ জন, ময়মনসিংহ- ৫ (মুক্তাগাছা) আসনে ৫ জন, ময়মনসিংহ- ৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে ৫ জন, ময়মনসিংহ- ৭ (ত্রিশাল) আসনে ৬ জন, ময়মনসিংহ- ৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে ৪ জন, ময়মনসিংহ- ৯ (নান্দাইল) আসনে ৬ জন, ময়মনসিংহ- ১০ (গফরগাঁও) আসনে ৯ জন ও ময়মনসিংহ- ১১ (ভালুকা) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটাররা জানান, এই জেলার আসনগুলোতে বিএনপি, বিদ্রোহী ও জামায়াত জোটের প্রার্থীদের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ১১টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হতে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটকেন্দ্র শান্তিপূর্ণ থাকলে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন ভোটরা। এজন্য সবার প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
মুক্তাগাছার চেচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল আওয়াল বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে এই কেন্দ্রে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। প্রভাবশালীরা কেন্দ্র দখলের জন্য লোকজন নিয়ে এসে হামলা চালায়। এই কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিন্হিত করা হয়েছে। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা থাকলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারবেন। কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোরভাবে দমন করবে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন/জেআইএম