ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত সাগরকন্যা কুয়াকাটা। প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে ছুটির দিনগুলোতে সাগরের বিশালতা উপভোগ করতে বিভিন্ন হোটেল মোটেলগুলো আগেই বুকিং করেছেন আগ্রহী পর্যটকরা। আর পর্যটন ব্যবসায়ীরাও এখানকার হোটেল মোটেলগুলোতে বিভিন্ন প্যাকেজ ও ডিসকাউন্ট ঘোষণা করেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের পরদিন থেকে আগামী এক সপ্তাহ অধিকাংশ হোটেল-মোটেলগুলো বুকিং হয়ে গেছে। তবে এবার ঈদে সরকারি ছুটি কম থাকায় এবং কালবৈশাখীর মৌসুম হওয়ায় গত বছরের থেকে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম হবে। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশের পক্ষ থেকে সকল ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের লীলাভূমি সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। ১৭ কিলোমিটার বিস্তৃত এই সৈকতের একপাশে সাগর আর আরেক পাশে সবুজে ঘেরা মনোরম প্রকৃতি। এখানকার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে নারিকেল বীথি, ফয়েজ মিয়ার বাগান, ইকোপার্ক, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার ও সীমা বৌদ্ধ বিহার।
এছাড়া ভ্রমণের জন্য রয়েছে সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চল খ্যাত ফাতরার বন, গঙ্গামতি, কাঁকড়ার চর, লেম্বুর চরসহ কয়েকটি স্থান। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ইঞ্জিনচালিত বোটে চরে ফাতরা, লালদিয়া, হরিণবাড়িয়া, সোনাকাটা ইকোপার্কসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলও ঘুরে দেখা যায় এখান থেকে।
কুয়াকাটায় বিভিন্ন স্থানে দেখা যাবে রাখাইনদের ছোট ছোট পল্লিতে থাকা তাত শিল্প ও রাখাইন নারীদের সংগ্রামী জীবন। দেখা যাবে শুঁটকি ও জেলে পল্লির কর্মব্যস্ত জীবন। বেড়িবাঁধ ঘেষে কুয়াকাটার প্রাচীন কয়াটির সামনেই রয়েছে সীমা বৌদ্ধ মন্দির। প্রাচীন এই মন্দিরে রয়েছে প্রায় ৩৭ মন ওজনের ধাতুর তৈরি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তি। পাশাপাশি কুয়াকাটার রাখাইন আদিবাসীদের আরেকটি বাসস্থল মিশ্রিপাড়ায় রয়েছে একটি বৌদ্ধ মন্দির। সেখান থেকে কিছু দূরে আমখোলা পাড়ায় রয়েছে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় রাখাইন বসতি। এসব এলাকা ঘুরে বেড়াতে প্রতিবছরই উৎসবগুলোতে ভিড় জমান পর্যটকরা।
তবে পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পর্যটকদের জন্য আমাদের হোটেলগুলো প্রস্তুত রয়েছে। সাগরকন্যা কুয়াকাটায় দেড় শতাধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। আর প্রতিবছরই এখানে উৎসবগুলোতে লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটে।
পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান বলেন, পর্যটকদের ভ্রমন নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পোশাকে এবং সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/আরএআর/পিআর