পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে এখন উত্তাল। সাগরের বিশাল বিশাল ঢেউয়ে বিলিন হচ্ছে সাগরের কোল ঘেষা গড়ে ওঠা অবকাঠামোসহ সবুজ বেষ্টনী। গত কয়েকদিনের অস্বাভাবিক জোয়ারে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তাণ্ডব থেকে রক্ষা পাচ্ছে না সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের এ বেলাভূমি। আর ভাঙন রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বিনিয়োগকারীরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
ইতোমধ্যে কুয়াকাটা মহাসড়কের প্রায় ১২ ফিট সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। সৈকতের পূর্ব দিকের শতবর্ষী নারিকেল, মেহেগনি, তাল গাছসহ বনবিভাগের শতাধিক দৃষ্টি নন্দন ঝাউ গাছ উপড়ে পড়ে আছে বালু ক্ষয়ে। কিছু গাছের গোড়া থেকে বালু সরে গিয়ে গাছের মূলসহ শিকড়-বাকর নিয়ে কোনো মতে দাঁড়িয়ে থাকলেও তবে যে কোনো মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগানে স্থাপন করা ঐতিহ্যবহনকারী সুন্দরী ও শাল কাঠসহ বিভিন্ন কাঠের তৈরি দো-তলা টিনের ঘরটি সমুদ্রের ঢেউয়ের তাণ্ডবে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, ভাঙন রক্ষায় ২১২ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করে সৈকতের শূন্য পয়েন্ট থেকে দুই দিকে পাঁচ কি.মি. এলাকা ২১ মিটার প্রস্থ, আড়াই মিটার উঁচু করে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদনোর জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। চলতি বছরে এ প্রকল্পের কাজ শুরুর কথা থাকলেও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পুন সমীক্ষার জন্য ফেরত পাঠানোয় তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পর্যটক সৈয়দ কিশোর বলেন, ছবির কুয়াকাটার সঙ্গে বাস্তবের সৈকতের কোনো মিল নেই। কুয়াকাটাকে রক্ষায় আধুনিক ও পরিকল্পিত ডিজাইনে মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল কিংসর মালিক মো. কলিম মাহমুদ জানান, আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। জমি এবং হোটেলসহ প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পত্তি সমুদ্রের হিংস্রতায় শেষ হয়ে গেছে। ভাঙনে ও বালু ক্ষয়ে আমাদের অপর প্রতিষ্ঠানটিও ঝুঁকিতে রয়েছে।
পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় অনেক বিদেশি পর্যটক আসে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সাগর ভাঙছে। তাই এখানে উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগ করলে তা আর ফেরত পাবো না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের জানান, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে ‘সৈকত রক্ষা প্রকল্প’ প্রস্তাবনা আকারে পাঠানো হয়েছিল। যা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পুন বিস্তারিত সমীক্ষার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে স্বল্প পরিসরে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ এবং সৈকত প্রটেকশনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ড. মো. মাছুমুর রহমান বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও পটুয়াখালী জেলা থেকে যেসব প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে বিচ ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে একটি প্রকল্প গ্রহণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। গঙ্গামতি থেকে লেম্বুর চর পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ কাজ নিলে কুয়াকাটা ভাঙনসহ এই অঞ্চলে আগত পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/আরএ/আরআইপি