দেশজুড়ে

কথা রাখেননি চেয়ারম্যান, রাস্তা সংস্কার করল গ্রামবাসী

দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা রাস্তার বিভিন্ন স্থান ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুই বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীসহ প্রায় দুইশ পরিবারের সদস্যদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

এমন দুর্ভোগ দূর করার জন্য গ্রামবাসী জনপ্রতিনিধির কাছে বার বার গেছেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। জনপ্রতিনিধি কথা দিয়ে কথা রাখেননি। এ অবস্থায় নিজেদের সমস্যা সমাধানে নিজেরাই এগিয়ে এলেন। নেমে পড়লেন রাস্তা সংস্কারের কাজে।

রোববার দুপুরে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কিসামত খড়িকাদাম গ্রামের শাপলা ক্লাবের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে এ রাস্তা সংস্কার করা হয়। পুলহাট থেকে কিসামত খড়িকাদাম গ্রামের যাওয়ার রাস্তা এটি। ওই এলাকা থেকে পশ্চিম দেবারুপাড়া পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করেন গ্রামের মানুষ। ইতোমধ্যে রাস্তার ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাকি কাজ ঈদের ছুটিতে শেষ করা হবে।

ওই গ্রামের আল আমিন ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির বেহাল দশা। এই রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছর এলাকার মানুষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে বার বার অনুরোধ করেও রাস্তাটির পাকা করাতে পারেননি। অবশেষে নিজেরাই নিজেদের রাস্তা সংস্কার করেছি।

শাপলা ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. মাসুদ রানা বলেন, আমরা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের সব স্তরে বার বার গিয়েও কোনো কাজ হয়নি। চেয়ারম্যান কথা দিয়েও রাস্তাটি সংস্কার করেননি। ৫-৬ বছরের প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ তখন আমরা নিজেরাই নেমে গেলাম রাস্তার সংস্কারে। আমাদের ক্লাবের সদস্যরাই রাস্তাটি সংস্কার করে দিলো।

ঝাড়বাড়ী পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, রাস্তাটি স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার যখন শুরু হয় আমি তখন দেখতে যাই। অসহনীয় তাপমাত্রায় রাস্তা সংস্কার কাজে নেমে পড়েছেন শাপলা ক্লাবের সদস্যসহ সাধারণ মানুষ। দেখে খুব ভালো লাগলো।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/এমএস