দেশজুড়ে

সন্তানের জন্য বাঁচতে চান অগ্নিদগ্ধ রুনা

চার বছর বয়সী মেয়ের খুব খিদে পেয়েছিল। শীতের সকালে তাড়াহুড়ো করে রান্না করার পর মেয়েকে চুলার পাশে দাঁড়িয়ে খাবার খাওয়াচ্ছিলেন রুনা খাতুন। এমন সময় চুলা থেকে পরনের শাড়িতে আগুন লেগে যায়। তাৎক্ষণিক বুঝে উঠতে না পারায় পা থেকে কোমর পর্যন্ত পুড়ে যায় তার। মাস দেড়েক আগে এমন ঘটনা ঘটলেও এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিন্যাবাড়ি গ্রামের ইউনুস আলীর স্ত্রী রুনা খাতুন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে দগ্ধ রুনা খাতুন ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছেন। অসহ্য যন্ত্রণায় বুকফাটা আর্তনাদ করছেন তিনি। পাশে মা রোজিনা খাতুন চেষ্টা করছেন মেয়েকে সান্ত্বনা দেয়ার। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। সারাদিন ঘরের কোণে রুণাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। শরীরে দেখা দিয়েছে রক্ত শূন্যতা। শুতে পারেন না, বসতেও পারেন না। দগদগে ঘায়ের যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতেও পারেন না।

বাবা জুলমত হোসেন মানসিক প্রতিবন্ধী। রুনার দিনমজুর স্বামী যা উপার্জন করেন সেই টাকা দিয়ে টেনেটুনে কোনোমতে সংসার চলে। টাকার অভাবে এখন চলছে কবিরাজের পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁকের চিকিৎসা। আস্তে আস্তে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে ঘা। ওষুধ কেনার টাকা নেই। অসহায় এই পরিবারটির পাশেও কেউ নেই। চিকিৎসার অভাবে ঘরে বসে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন অগ্নিদগ্ধ রুনা খাতুন।

মা রোজিনা খাতুন জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠান। রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পর রুনার দগ্ধ অবস্থা দেখে ঢাকায় বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। কিন্তু গাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসার টাকা না থাকায় তাকে (রুনা) বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। মেয়ের ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চান তিনি।

রুনা খাতুন আর্তনাদ করে বলেন, ‘আমার বাবা পাগল। আমাদের টাকা নেই। চিকিৎসায় স্বামীরও তেমন আগ্রহ নেই। আমি কি বাঁচবো না? আর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না! আমার মেয়ের জন্য হলেও আমাকে বাঁচান।’

এ ব্যাপারে নিমাউচাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন বলেন, আসলেই পরিবারটি খুব অসহায়। আমি ঘটনার পর সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি। কিন্তু মেয়েটির উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

এফএ/পিআর