দেশজুড়ে

ভাঙনের মুখে ২৫০ বছরের পুরোনো ‘বুড়ির মসজিদ’

আড়াইশ বছরের পুরোনো ‘বুড়ির মসজিদ’। এটি নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে অবস্থিত। ১৭৭৮ মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হলেও নদী ভাঙনে ১৮৮৮ সালে দ্বিতীয়বার এখানে স্থাপন করা হয়। বর্তমানে মসজিদটি আবারও ভাঙনের মুখে রয়েছে।

স্থানীয় অধিবাসীরা এই মসজিদকে অন্যান্য মসজিদের চেয়ে একটু ভিন্নভাবে বিশ্বাস করেন। গ্রামের অনেক সহজ সরল মানুষ মনে করেন এই মসজিদে আধ্যাত্মিক কোনো শক্তি আছে। ফলে গ্রামের অন্য মসজিদ থেকেও এই মসজিদে দান অনুদানের পরিমাণ অনেক বেশি।

মসজিদটি প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, ১৭৭৮ সালে এটি স্থাপিত হয় তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের ভুলুয়া নামক স্থানে। নিঃসন্তান একজন বুড়ি মারা যাওয়ার আগে তার সব সম্পত্তি এলাকার লোকজনের মধ্যে বিভাজন করে দিয়ে যান। বুড়ি মারা যাওয়ার পর এলাকার লোকজন বুড়ির দেয়া ওয়াদা পালন করতে গিয়ে এই মসজিদটি তৈরি করেন। সে থেকে এই মসজিদের নাম দেয়া হয়েছে ‘বুড়ির মসজিদ’ হিসেবে।

মসজিদের দেয়ালে বিশাল সাইনবোর্ডে লেখা ‘বুড়ির জামে মসজিদ’। সাইনবোর্ডে লেখা প্রতিষ্ঠার সাল ১৭৭৮ দেখে বোঝা যায় এর বয়স হবে প্রায় আড়াইশ বছর। বর্তমানে মসজিদটি উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের মুডা হাফেজগো বাড়ির দরজায় অবস্থিত।

জানা গেছে, পূর্বের জায়গায় মসজিদটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে আলীম উদ্দিন চাপরাশি নামে এক লোক মসজিদটি নিয়ে হাতিয়া চলে আসেন। পরে আলীম উদ্দিন চাপরাশির পারিবারিকভাবে বসবাসের জন্য তৈরি করা বাড়ির দরজায় এই মসজিদটি ১৮৮৮ সালে দ্বিতীয়বার স্থাপন করা হয়।

আলীম উদ্দিন চাপরাশির নাতি ও বর্তমান বুড়ির জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকারিয়া ডিপটি বলেন, ‘এই মসজিদটি আমাদের বাড়ির দরজায় পুনঃস্থাপিত হয় ১৮৮৮ সালে। এরপর থেকে আমাদের পরিবারের লোকজন বংশানুক্রমে মসজিদটি পরিচালনা করে আসছেন। একসময় এলাকার লোকজন আধ্যাত্মিক কোনো শক্তি আছে মনে করে এই মসজিদকে অনেক কিছু দিয়ে যেত। কেউ কেউ প্রথম সন্তান জন্ম দিলে তাকে মসজিদে নিয়ে আসত। কেউ কেউ শুক্রবার জুমার নামাজে বিভিন্ন উপলক্ষে দান-অনুদান ও বাহারি আইটেমের নাস্তা তৈরি করে মুসল্লিদের জন্য নিয়ে আসত।’

তিনি আরও বলেন, ‘নোয়াখালী ভূখণ্ড থেকে হাতিয়া একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এই দ্বীপের চেয়েও মসজিদের বয়স অনেক বেশি হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে দেখতে আসেন কৌতূহলী লোকজন। কিন্তু হাতিয়াতে অব্যাহত নদী ভাঙনের ফলে যেকোনো সময় মসজিদটি আবার নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বুড়ির মসজিদের ভাঙনসহ যাবতীয় বিষয়ে স্থানীয় চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে (তহশিলদার) সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

এসজে/এমএস