অবশেষে ভাতা পাচ্ছেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর কাদিরপুরের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুছ। সোমবার (১৭ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান।
তিনি বলেন, দু-তিনদিনের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুছের এমআইএস নিবন্ধন করে তার বকেয়া সমুদয় ভাতা পাওয়ার জন্য কাগজপত্র তৈরির কাজ চলছে।
এর আগে জাগো নিউজে গত ৮ মে ‘জীবিত মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত দেখিয়ে ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ’ এবং গত ১৩ মে ‘ঈদ করা হলো না সেই মুক্তিযোদ্ধার’ শীর্ষক দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামছুন নাহার উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানি করেন। পরে ভাতা আত্মসাৎকারী ছায়েরা বেগমকে তিরস্কার করে ভাতা ও চেকবই জমা এবং প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুছের ভাতা পাওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুছ জাগো নিউজকে বলেন, আমি অত্যন্ত খুশি। অভিযোগ দেয়ার পাঁচ মাসেও বিভিন্ন অফিসে দৌড়ঝাঁপ করে কোনো সমাধান পাইনি। জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যেই আজ ইউএনও অফিসে ডেকে আমার পক্ষে রায় দিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। এজন্য তিনি জাগো নিউজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ১৬ নম্বর কাদিরপুর ইউনিয়নের ঘাটলা গ্রামের জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুছকে মৃত দেখিয়ে ভাতার টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ ওঠে একই গ্রামের মৃত আবদুল কুদ্দুছের মেয়ে ছায়েরা খাতুনের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুছ ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করে বারবার ধরনা দিলেও এতো দিন কোনো প্রতিকার পাননি।
আরএইচ/এএসএম